কলকাতা, 6 নভেম্বর: রাত পোহালেই ছট পুজো । হিন্দিবলয়ে উৎসবের আবহ । ঠিক তেমনই কলকাতার অবাঙালি মানুষজনের মধ্যেও এখন উৎসবের আমেজ । ছট পুজোর আগে সকলে ব্যস্ত কেনাকাটায় । বাজারগুলিতে থিকথিক করছে ভিড় ।
কলকাতার গিরিশ পার্ক সংলগ্ন নতুন বাজার থেকে যদুবাবু বাজার, লেক মল থেকে খিদিরপুর, সব জায়গায় কেনাকাটা জমজমাট । তবে অন্য পুজোর মতোই ক্রেতাদের হাতে ছ্যাঁকা লাগছে দামের । তাতে কী ! বছরে একবার ছট পুজো ৷ তাই পকেটে টান পড়লেও পুজোর কেনাকাটা ও ধর্মাচার পালনে কোনও ত্রুটি রাখতে নারাজ ভক্তরা । কলকাতার বিভিন্ন এলাকার বাজারে যা ফলের দাম থাকে তার থেকে বেশ খানিকটা কম হয় নতুন বাজারে ৷ তাই দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এই নতুন বাজারে কেনাকাটা করতে আসেন । তবে এবারে ছটের আগে সেখানেও বেশ বেড়েছে ফলের দাম ।
কলকাতায় ছটের বাজার (নিজস্ব ছবি) গত বছর যে কলার কাঁদি 400 টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবার তার দাম গিয়ে ঠেকেছে 500-600 টাকায় । আর ছট পুজোয় কলা অন্যতম উপাদান ৷ সে দাম যাই হোক, পুজোয় তা লাগবেই ৷ কুলো থেকে ঝুড়ি প্রত্যেক পুজোর সামগ্রীরও দাম বেড়েছে অনেকটাই । পুজোর কাজে ব্যবহারের কুলো 80-100 টাকায় এক-একটি বিকোচ্ছে । একটি ঝুড়ির দাম 150 টাকা ।
ছটের বাজারে ক্রেতাদের ভিড় (নিজস্ব ছবি) ছটে বাজারদর:
- আখ এক-একটি 100 - 150 টাকা
- বেদানা 200 টাকা কেজি
- নাসপাতি 100-120 টাকা কেজি
- শাকালু 100-120 টাকা কেজি
- আনারস ছোট 80-100 টাকা
- বড় আনারস 120-150 টাকা
- নারকেল একটির দাম 60 টাকা
- পেয়ারা 80-100 টাকা কেজি
- শশা 70-80 টাকা কেজি
- বড় লেবু এক-একটি 50-70 টাকা
- ছোট লেবুর ক্ষেত্রে দাম 30-40 টাকা
- পানিফল 60-80 টাকা প্রতি কেজি
- আতা প্রতি কেজি 120-140 টাকা
- বেল এক-একটি 10 টাকা
- মুসাম্বি এক-একটি 10 টাকা
- জলপাই কেজি প্রতি 120-140 টাকা
- আমলকি 120 টাকা কেজি
- পেঁপে 100-120 টাকা কেজি
- কামরাঙা এক-একটি 10 টাকা
- হলুদ গাছ এক-একটি 10 টাকা
- রাঙা আলু 80-100 টাকা কেজি
- কাঁচা হলুদ 100 টাকা কেজি
- কলার কাঁদি 550-700 টাকা
সবমিলিয়ে বলা যেতে পারে, বাজারে সব ফল আজ সেঞ্চুরি হাঁকাচ্ছে । ক্রেতা রোশনি সাউ ও দীপু পাসওয়ান কথায়, "বছরে এক দিন ছট পুজো । দাম বাড়লে জিনিস কিনতে অসুবিধা হচ্ছে ঠিকই, তবে কিনতে তো হবেই । নতুন বাজারের থেকে অন্য বাজারগুলোয় আরও চড়া দাম । কলার কাঁদি ও অন্যান্য ফল তো কিনতেই হবে ৷" অন্যদিকে বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, এ বছর ফলের দাম বেশি আছে ৷ তবে বাজারে ব্যবসা ভালোই হচ্ছে ।