সিওল, 15 জানুয়ারি:দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে ইমপিচ (বরখাস্ত) করার পর বুধবার (15 জানুয়ারি) আইন প্রয়োগকারী কর্তারা গ্রেফতার করেন। সে দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতার করা হল। তাঁর গ্রেফতার দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। দেশের রাজনীতিতে এর গভীর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞ মহলের।
একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদ অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অন্যান্য অনিয়ম। সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাস হওয়ার পর, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্টকে হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে সামরিক আইন জারির চেষ্টা:
বরখাস্ত হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং সামরিক আইন জারি করার চেষ্টা করেছিলেন, যা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিল। ইমপিচ করার পর থেকে দেশে একটা অস্থিরতার পরিবেশ ছিল, যা এখন তার গ্রেফতারে আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে।
বুধবার সকালে, দক্ষিণ কোরিয়ার হাজারেরও বেশি দুর্নীতিবিরোধী তদন্তকারী আধিকারিক এবং পুলিশ কর্মকর্তা ইউন সুক ইওলের বাসভবনের সামনে আসেন। এ সময় তাঁদের প্রেসিডেন্টের বাসভবনের নিরাপত্তাবাহিনীর বাধার মুখে পড়তে হয়। তবে শেষে পুলিশ প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা:
ইউন সুক ইওলের গ্রেফতার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অনেক দেশ এই ঘটনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্রের শক্তি বৃদ্ধির অধ্যায় হিসেবে দেখেছে। তবে প্রেসিডেন্টর গ্রেফতারে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।