উজ্জয়িনী, 26 ফেব্রুয়ারি: চারিদিকে আলোর মেলা, ধূপের গন্ধ ও ফুলের মালা ৷ মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে সেজে উঠেছে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দির ৷ মঙ্গলবার গভীর রাতে ভক্তদের দর্শনের জন্য খুলে দেওয়া হল বাবা মহাকালের মন্দিরের দরজা ৷
দরজা খুলে দেওয়ার পর একে একে ঘি, দই, দুধ, মধু দিয়ে বাবা মহাকালকে স্নান করান মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মহেশ শর্মা ৷ এরপর মহাকালের উদ্দেশ্য়ে ভষ্ম আরতি করেন মহাননির্বাণী আখড়ার প্রধান বিনীত গিরি মহারাজ ৷ তারপর রাজার মতো সাজানো হয় বাবা মহাকালকে ৷ এরপর আরতি করা হয় তাঁর ৷
জানা গিয়েছে, ভক্তদের দর্শনের জন্য আগামী 44 ঘণ্টা একভাবে খোলা থাকবে মহাকালেশ্বের মন্দিরের দরজা ৷ তবে, বাবার এই রাজ বেশ কেবলমাত্র মহাশিবরাত্রির জন্য ৷ রাত 12 টায় মহাদেবকে বরের মতো পাগড়ি পড়ানো হবে ৷ বৃহস্পতিবার সকালে ফের ভষ্ম আরতি করা হবে ৷ পাশাপাশি, অনুমতি ছাড়াও মহাকালের বিশেষ এই ভষ্ম আরতি দর্শন করতে পারবেন ভক্তরা ৷ বৃহস্পতিবার রাত 11টার পর বন্ধ করা হবে মন্দিরের দরজা ৷
মহাকালেশ্বর মন্দিরে ভক্তদের ভিড় (ইটিভি ভারত)
বুধবার শিবরাত্রি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মহাকালেশ্বর মন্দিরে ভিড় জমান ভক্তরা ৷ সেই ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ৷ ট্র্যাফিক ডাইভারশন ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে ৷ অন্যদিকে, যানজট এড়াতে ও যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য 25 ফেব্রুয়ারি থেকে 27 ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত 12টি রাস্তায় সমস্ত যান চলাচল নিষিদ্ধের ঘোষণা করা হয়েছে ৷ বাইরে থেকে আগত ভক্তদের জন্য নির্দিষ্ট গাড়ির পার্কিংয়েরও ব্যবস্থা করা হয়েছে ৷
রাজার বেশে মহাকাল (ইটিভি ভারত)
সরকারি সূত্রে খবর, প্রায় 200টি সিসিটিভি এবং 3টি ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি রাখা হবে । পুলিশ সুপার প্রদীপ শর্মা বলেন, "মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে, মহাকাল মন্দির এলাকা ছাড়াও শহরের প্রধান রাস্তা এবং বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ।" তিনি জানান, মোট 1600 জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে । তাঁদের মধ্যে 150 জন মহিলা পুলিশ, 150 জন ট্রাফিক পুলিশ, 4 জন অতিরিক্ত এসপি, 12 জন ডিএসপি, 24 জন পরিদর্শক রয়েছেন ।