নয়াদিল্লি, 2 এপ্রিল: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের 'চরম অবমাননা'র অভিযোগ ৷ আর সেই নিয়ে আজ শীর্ষ আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের প্রধান যোগগুরু রামদেব এবং সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর আচার্য বালকৃষ্ণ ৷ আদালতের নির্দেশ মেনে হলফনামা জমা না দেওয়ায় তাঁদের পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলল আদালত ৷ সেই সঙ্গে রামদেবের ক্ষমা প্রার্থনাকেও খারিজ করে দিয়েছে বিচারপতি হিমা কোহলি এবং বিচারপতি আসাউদ্দিন আমানুল্লাহর বেঞ্চ ৷
উল্লেখ্য, রামদেবের সংস্থা পতঞ্জলির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন এবং সেই সংক্রান্ত সীমালঙ্ঘন করার অভিযোগে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন মামলা দায়ের করেছিল ৷ যে মামলায় গত 19 মার্চ রামদেব এবং আচার্য বালাকৃষ্ণকে সমন পাঠিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট ৷ সেই সমনের ভিত্তিতেই আজ সুপ্রিম কোর্টে সশরীরে হাজির ছিলেন দু’জন ৷ এদিন আদালত পতঞ্জলির এমডি-র বক্তব্যকে খারিজ করেছে ৷ যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে, "ড্রাগস এবং প্রসাধনী (জাদু প্রতিকার) আইন অতি প্রাচীন যুগ থেকে চলে আসছে ৷"
এদিনের শুনানিতে বিচারপতি হিমা কোহলি এবং বিচারপতি আসাউদ্দিন আমানুল্লাহর বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, "কেবলমাত্র সুপ্রিম কোর্ট নয় ৷ দেশের যে কোনও আদালতের আদেশকে সম্মান করতে হবে... এটা পুরোপুরি আদালতের অবমাননা ৷ আপনাদের আদালতের প্রতিটি আদেশ মেনে চলতে হবে ৷ কিন্তু, আপনারা প্রতিটি সীমা লঙ্ঘন করেছেন ৷"
এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারকেও এদিন ভর্ৎসনা করেছে শীর্ষ আদালত ৷ সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন, "কেন কেন্দ্র তাঁদের চোখ বন্ধ করে রেখেছিল ? যখন প্রতিটি শহরে গিয়ে পতঞ্জলি প্রচার করছিল যে, অ্যালোপ্যাথিতে কোভিডের কোনও প্রতিকার নেই ৷" এরপরেই রামদেবে আইনজীবী বলবীর সিং আদালতে অনুরোধ করে, যাতে রামদেবের উপস্থিতি এবং তাঁর নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা আদালত নথিভুক্ত করা হয় ৷ এমনকি কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও সংস্থার পক্ষে সওয়াল করেন ৷ তুষার মেহতা বলেন, "যা ঘটেছে তা, হওয়া উচিত ছিল না ৷ এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতে অভিযুক্ত পক্ষকে পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করা হোক ৷"