বর্ধমান, 26 ফেব্রুয়ারি: রাঢ়বঙ্গের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যতম বড় শিবলিঙ্গ বাবা বর্ধমানেশ্বর । বর্ধমান শহরের আলমগঞ্জে অবস্থিত এই শিব মন্দির মোটা শিব নামেই সকলের কাছে পরিচিত । ইতিহাসবিদেরা বলছেন, শিবলিঙ্গের সঙ্গে থাকা শিলালিপি প্রমাণ করে যে, প্রায় দেড় হাজার বছরেরও বেশি পুরনো এই শিবলিঙ্গ । সম্রাট কণিষ্ক নাকি এই শিবলিঙ্গের পুজো করতেন । সেই প্রাচীন শিব মন্দিরে শিবরাত্রিতে নামল ভক্তদের ঢল ৷
শুধু বর্ধমান জেলা নয়, রাঢ়বঙ্গের অন্যতম প্রাচীন শিবলিঙ্গ বর্ধমানেশ্বর । 1972 সালে একটা পরিবার সেখানে বাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু করে । মাটি খুঁড়তে গিয়ে হঠাৎ গাঁইতির কোপ পড়ে একটা পাথরের উপরে । সেই আওয়াজ শুনে কর্মরত শ্রমিকেরা চমকে ওঠেন । তারপর সযত্নে মাটি খুঁড়তে থাকেন তাঁরা । বেশ কিছুটা মাটি খোঁড়ার পরে দেখা যায়, মাটির ভিতরে একটা বিশাল শিবলিঙ্গ । সেই শিবলিঙ্গ বের করার পরে দেখা যায়, তার উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট, এমনকি এর ব্যাসও ছয় ফুটের কাছাকাছি । আর গৌরীপট্ট অর্থাৎ শিবলিঙ্গের নিম্নস্থ পিঠের পরিধি প্রায় 18 ফুট ।
প্রায় 13 টন ওজন বিশিষ্ট শিবলিঙ্গকে ক্রেনের সাহায্যে তোলা হয় । শিবলিঙ্গ তোলার পরে পাশেই তাকে স্থাপন করা হয়, সেখানেই আটচালার মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে । মন্দির লাগোয়া আছে বাঁধানো একটা পুকুরঘাট । ওই পুকুর দুধ পুকুর নামে পরিচিত । ওই শিবলিঙ্গের তলার দিকে একটা খোদাই করা শিলালিপি দেখা যায় । সেই সময় ইতিহাসবিদেরা সেই শিলালিপির কিছু অংশ পড়তে সক্ষম হয়েছিলেন । সেখান থেকে জানা যায়, এই শিবলিঙ্গ সম্রাট কণিষ্কের আমলের । সম্রাট কণিষ্কও নাকি এই শিবলিঙ্গের পুজো করতেন ।