গুসকরা, 18 জুন: মেয়ে আসছে ৷ তাঁর সঙ্গে ঈদ পালন করবেন ৷ সেই আনন্দে শিলিগুড়ি থেকে বাড়ি ফিরছিলেন মা ৷ অপূর্ণ থেকে গেল সেই আশা ৷ মেয়ের সঙ্গে আর ঈদ পালন হল না ৷ সোমবারের কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় সব শেষ ৷ প্রাণ গেল মা 43 বছরের বিউটি বেগম শেখের ৷ মঙ্গলবার তাঁর দেহ ফেরে বাড়িতে ৷ বিউটির বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা শহরের 5 নং ওয়ার্ডের ইটাচাঁদায়।
মৃতের মেয়ে সুনয়নী খাতুন বলেন, "ঈদের দিনে মায়ের বাড়ি আসার কথা ছিল। আসলে ঈদের দিনে বিকেলে আমরা আসব সেই কারণে মা বাড়ি আসতে চায় । বাবা শিলিগুড়িতে একটা বিস্কুটের কারখানায় গাড়ি চালায় । মা সেখানে গিয়েছিল । কাল সকালের দিকে যখন ফোন করি, মা জানায় সেখানে খুব বৃষ্টি হচ্ছে । তারপর মায়ের সঙ্গে আর কথা হয়নি । দুপুরের দিকে বাবা আমার স্বামীর ফোনে কল করে । বাবা ফোনে ট্রেন দুর্ঘটনায় মায়ের মৃত্যুর খবর জানায় । আমাদের জন্যই মা বাড়ি ফিরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল ।"
সোমবার নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের কাছে রাঙাপানি ও নিজবাড়ি স্টেশনের মধ্যে ডাউন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় পড়ে । সেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় বিউটি বেগমের । ঈদের দিনেই দুঃসংবাদ আসে বিউটির পরিবারে । মৃতের শাশুড়ি জাহানারা বেগম বলেন, "আমার ছেলে হাসমত বৌমাকে ট্রেনে চাপাতে গিয়েছিল । তারপর ছেলে কাজে চলে যায় । ঈদের জন্য বউমা বাড়ি ফিরছিল । সকালের দিকে নাতনির সঙ্গে বউমার কথাও হয় । দুপুরের দিকে খবর পায় বউমার ট্রেন দুর্ঘটনা হয়েছে। ছেলে হাসপাতালে যায় । সেখানে দেখে রক্তাক্ত অবস্থায় বেশ কিছু দেহ । ছেলে বৌমার দেহ সনাক্ত করে।"
জানা গিয়েছে, বিউটির স্বামী শেখ হাসমত শিলিগুড়িতে একটা কারখানায় গাড়ি চালান। মাসচারেক আগে হাসমত সেই কাজ পান । বিউটি দিন পনেরো অন্তর একবার করে শিলিগুড়িতে স্বামীর কাছে যেতেন । বিউটির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে ৷ তাঁর ছেলে কেরলে কাজ করেন । মেয়ে সুইটির বিয়ে হয়ে গিয়েছে ৷ সোমবার বিউটির স্বামী সকালের দিকে তাঁকে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে ট্রেনে চাপিয়ে দিয়ে যান । কিন্তু দুপুর নাগাদ ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পান হাসমত ৷ হাসপাতালে গিয়ে স্ত্রীর দেহ চিহ্নিত করেন তিনি। আজ গুসকরার বাড়িতে দেহ আসে। স্বভাবতই শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার । জেলা প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করে পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ।