নৈহাটি, 2 ফেব্রুয়ারি: কমিশনার বদলের পরেই নৈহাটির তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় প্রথম গ্রেফতার পুলিশের । ঘটনার দু'দিন পরে পুলিশের জালে অক্ষয় গণ নামে এক দুষ্কৃতী । খুনের ঘটনায় আরও চারজনকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গিয়েছে ।
তৃণমূল কর্মী সন্তোষ যাদব খুনের ঘটনার পরের দিনই অর্থাৎ শনিবার ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় অলোক রাজোরিয়াকে । তাঁর জায়গায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এক সময়ে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের গোয়েন্দা প্রধান দুঁদে আইপিএস অজয় ঠাকুরকে ।
দায়িত্ব পাওয়ার পরেই শনিবার রাতে নৈহাটি থানায় গিয়েছিলেন তিনি । তৃণমূল কর্মী সন্তোষ যাদব খুনের তদন্ত কোন পথে চলছে তা খতিয়ে দেখেন তিনি । সেই খুনের ঘটনায় কেন এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি, সেই বিষয়ে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য জানতে চান তিনি । তদন্তে গতি আনতে পদস্থ পুলিশকর্তাদের সঙ্গে এদিন বৈঠকও করেন ব্যারাকপুরের নয়া পুলিশ কমিশনার । তার ঠিক পরেই এই গ্রেফতার ।
সূত্রের খবর, নৈহাটি থানা এলাকা থেকেই অক্ষয় গণ-কে পাকড়াও করেছে পুলিশ । ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিতে রবিবার ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে আবেদন করা হবে পুলিশের তরফে । তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হলে খুনের বিষয়ে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে আশা তদন্তকারীদের ।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার নৈহাটির গৌরীপুর এলাকায় টোটো করে যাওয়ার সময় ইট দিয়ে থেঁতলে আধমরা করা হয় তৃণমূল কর্মী সন্তোষ যাদবকে । এরপর তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করতে চালানো হয় গুলি । এমনটাই দাবি ছিল তৃণমূল নেতৃত্বের । এই ঘটনার নৃশংসতায় কেঁপে উঠেছিল গোটা রাজ্য । পরে অবশ্য ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার অলোক রাজোরিয়া দাবি করেন, গুলি চালানো হয়নি । থেঁতলেই খুন করা হয়েছে এই তৃণমূল কর্মীকে । খুনের ঘটনার পরপরই রীতিমতো তপ্ত হয়ে ওঠে গৌরীপুর এলাকা ।
ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক ও নৈহাটির বিধায়ক সনৎ দে অভিযোগ তুলেছিলেন, এই ঘটনার নেপথ্যে বিজেপি নেতা অর্জুন সিং ঘনিষ্ঠদের হাত রয়েছে । যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে পালটা এই খুনের ঘটনায় তৃণমূলের ঘাড়েই দায় চাপান অর্জুন । এদিকে, ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার পদে অজয় ঠাকুর দায়িত্ব নেওয়ার পরেই সন্তোষ যাদব খুনে এই গ্রেফতারি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে ।