জলপাইগুড়ি, 26 ফেব্রুয়ারি: দুই নাবালিকাকে যৌন হেনস্তার মামলায় এক যুবককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল জলপাইগুড়ি আদালত ৷ মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক ফাস্ট কোর্টের বিচারক স্বাতী মুখোপাধ্যায় এই সাজা শোনান ৷ 17 বছরেরও বেশি সময় পর এই মামলার নিষ্পত্তি হল ৷
সাজাপ্রাপ্ত যুবক তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলার ভক্তিনগর থানা এলাকার বাসিন্দা ৷ সে প্রতিবেশী এক নাবালিকাকে চকোলেটের লোভ দেখিয়ে এবং টিভি দেখানোর নাম করে বাড়িতে ডাকত ৷ তার পর যৌন হেনস্তা করত ৷ দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনা ঘটতে থাকে ৷ নাবালিকার শারীরিক সমস্যা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় ৷
নাবালিকার পরিবার থানায় অভিযোগ জানায় ৷ তার ভিত্তিতে ভক্তিনগর থানার পুলিশ 2008 সালের 8 অগস্ট গ্রেফতার করে ওই যুবককে ৷ তদন্তে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে আসে ৷ জানা যায়, এলাকার আরও এক নাবালিকার সঙ্গে একই ঘটনা ঘটিয়েছিল ওই যুবক ৷ তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয় ৷
ওই বছর নভেম্বরের 10 তারিখ জামিন পায় ওই যুবক ৷ দু’বছর পর 2010 সালের 25 অগস্ট পুলিশ চার্জশিট পেশ করে ৷ প্রায় 15 বছর ধরে চলল বিচার প্রক্রিয়া ৷ অবশেষে মঙ্গলবার সাজা ঘোষণা হল ওই যুবকের ৷ সরকারি আইনজীবী প্রতীকলাল ঝা চক্রবর্তী জানান, ঘটনার তদন্তে নেমে ভক্তিনগর থানার পুলিশ 14 জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে । সেই সব সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ওই যুবককে সাজা দিয়েছেন বিচারক স্বাতী মুখোপাধ্যায় ৷
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তকে সাত বছরের সশ্রম কারাদাণ্ড দিয়েছেন বিচারক ৷ পাশাপাশি 50 হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ৷ জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের জেলের নির্দেশ দিয়েছেন ৷ অন্যদিকে নির্যাতিতা দুই নাবালিকাকে এক লক্ষ টাকা করে সাহায্য করার জন্য জেলা আইনি সহায়তা কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক ।