দার্জিলিং, 25 জানুয়ারি: 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রেল পরিষেবাকে হাতিয়ার বিজেপির । আর রেল বাজেটে তার প্রতিফলন আনতে এবার উদ্যোগী কর্তৃপক্ষ । উত্তরবঙ্গে গেরুয়া ভোট ব্যাংকের ফাটল মেরামত করতে রেল বাজেটকে একমাত্র হাতিয়ারের পথ হিসেবে বলে মনে করছে বিজেপির একাংশ । সেই মতো রেল বাজেট তৈরি করতে কাটিহার ও আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের অন্তর্গত প্রত্যেক সংসদের কাছ থেকে একাধিক প্রস্তাব ও পরামর্শ চাইল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ ।
শুক্র ও শনিবার শিলিগুড়ি সংলগ্ন সালুগাড়ার একটি টি-রিসর্টে রেলের এই দুই ডিভিশনের অধীনে থাকা সাংসদদের নিয়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার চেতন শ্রীবাস্তবের বৈঠক হয় । পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসম ও সিকিমের সাংসদরা উপস্থিত ছিলেন । আর ওই বৈঠকেই একাধিক প্রস্তাব দিয়েছেন সাংসদরা ।

এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার চেতন শ্রীবাস্তব, বিহারের কাটিহারের সাংসদ তারিক আনওয়ার, পূর্ণিয়ার সাংসদ রাজেশ রঞ্জন, আরারিয়ার প্রদীপ কুমার সিং, কিশানগঞ্জের পাপ্পু যাদব, এরাজ্যের জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়, আলিপুরদুয়ারের মনোজ টিগ্গা, রায়গঞ্জের কার্তিকচন্দ্র পাল, নগেন্দ্র রায়, সিকিমের দর্জি শেরিং লেপচা, অসমের ধুবড়ির সাংসদ রাকিবুল হুসেন, কোকরাঝাড়ের সাংসদ জয়ন্ত বাসুমাতারি-সহ অন্যান্যরা ।
এদিনের বৈঠকে বিজেপির সাংসদরা নিজের নিজের এলাকায় ট্রেন পরিষেবা উন্নত করার পাশাপাশি বিভিন্ন দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজ এবং বেশ কিছু নতুন ট্রেন চালুর প্রস্তাব দেন । দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা অনুপস্থিত থাকলেও তিনি লিখিত প্রস্তাব পাঠান । তাতে শতাব্দী এক্সপ্রেস এবং দার্জিলিং মেলকে শিলিগুড়ি জংশন দিয়ে চালানো ও বাগডোগরায় স্টপেজ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন । এছাড়া রাঙ্গাপানি-বাগডোগরা সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বেশ কিছু নতুন লোকাল প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালানোর প্রস্তাব পাঠান তিনি ।
জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায় বলেন, "এনজেপি স্টেশনে কাজ এবছরের শেষের দিকে শেষ হবে বলে জানিয়েছে রেল । কিন্তু এদিন আমি প্রস্তাব দিয়েছি পুজোর আগেই এই কাজ শেষ করার । বহু ট্রেন যাত্রী হয়রানি শিকার হচ্ছেন । পাশাপাশি ঠাকুরনগরের উড়ালপুলের কাজ দ্রুত শুরু করার ব্যাপারেও বলেছি । ভিস্তাডোম কোচকে লাভজনক করার জন্য সপ্তাহে তিন দিন করে এনজেপি থেকে আলিপুরদুয়ার বর্তমান রুটের পাশাপাশি লাটাগুড়ি দিয়েও এই ট্রেন চালানো হোক বলে জানিয়েছি । এছাড়া বাংলা সিকিম রেলপথ চালু হলে এনজেপি আলাদা ডিভিশন করা উচিৎ বলে জানিয়েছি ।"
তিনি জানান, এভাবে ভাগাভাগি করে দুই রুট দিয়ে এই ট্রেন চললে যাত্রী বাড়বে, লাভজনকও হবে । সাংসদদের একগুচ্ছ প্রস্তাবের কিছুটা হলেও প্রতিফলন বাজেটে পড়বে । কিষানগঞ্জের সাংসদ পাপু যাবদ বলেন, "ভারত নেপাল রেল পরিষেবা চালু করে উন্নতমানের করা হোক । ছোট রেল স্টেশনে যাত্রী পরিষেবা বাড়ানো উচিত । বিশেষ করে বারসই স্টেশনে দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া উচিত । এতে বিহারের যাত্রীদের সুবিধা হবে ।"
এদিকে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারাল ম্যানেজার চেতন শ্রীবাস্ত বলেন, "ভোটের অঙ্কে বাজেট করার কোনও বিষয় নেই । মাঝে মধ্যেই আমরা এই ধরনের মত বিনিময় করে থাকি পরিষেবা উন্নতির জন্য । ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্টেশনে ক্যাশলেস পরিষেবার জন্য কিউআর কোড চালু করা হয়েছে । অমৃতভারত স্টেশনের অধীন বিভিন্ন রেল স্টেশনকে সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে ।"