রায়গঞ্জ, 3 মে: বুধবার সাতসকালে রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীর বাড়িতে হানা দিল আয়কর দফতর। একযোগে কৃষ্ণ কল্যাণীর বাড়ি, বুলেট-শো রুম, তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়, কল্যাণী সলভেক্স, ট্রাইব টিভি, ওয়া বাজার, পিআরএম শপিংমল, রিলায়েন্স স্মার্ট-সহ কৃষ্ণ কল্যাণীর সমস্ত প্রতিষ্ঠানে হানা দেন আয়কর আধিকারিকরা। এদিন সকালে আয়কর দফতরের একটি দল আচমকাই বিধায়কের বাড়িতে হানা দেয় ৷ বিধায়ককে বাড়ি থেকে কাউকে বেরোতে দেওয়া হয়নি। কয়েকঘণ্টা ধরে কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা বাড়ির ভিতরেই রয়েছেন ৷ সকলের ফোন নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে খবর ৷ তবে ঠিক কোন ঘটনার তদন্তে এই হানা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের 18 নম্বর ওয়ার্ডের কো-অর্ডিনেটর তথা কৃষ্ণ কল্যাণীর ভাই প্রদীপ কল্যাণী জানিয়েছেন, আচমকাই বিধায়কের বাড়িতে আয়কর আধিকারিকরা ঢুকে পড়েন। বাড়ি থেকে কাউকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই কাজ করছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। ঠিক কী কারণে এই হানা তা বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকেই। তিনি আরও বলেন, "শুভেন্দু অধিকারী আমার দাদাকে বিধানসভার ভিতরে হুমকি দিয়েছিলেন ইডির নাম করে।" অন্যদিকে, রায়গঞ্জে বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী আপ্ত সহায়ক সৌরভ দাস বলেন, "প্রায় দু'ঘণ্টা হয়ে গেল তাঁরা ভিতরে ঢুকেছেন। ভিতরে ঢুকেই তাঁরা বিধায়ক-সহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের ফোনগুলি সিজ করে নিয়েছেন।"
আরও পড়ুন: বন্দুকবাজের আতঙ্কের রেশ এখনও কাটেনি মালদার স্কুলে
তিনি জানান, বিধায়কের সমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান-সহ বিধায়কের পার্টি অফিসেও হানা দিয়েছে আয়কর দফতর। এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চক্রান্ত। বিগতদিনে রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীকে বিধানসভার ভিতরে শুভেন্দু অধিকারী হুমকি দিয়েছিলেন তারই ফলস্বরূপ এঘটনা ৷ এই খবর জানাজানি হতেই বিধায়ক কার্যালয়ের সামনে কৃষ্ণবাবুর কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক তৃণমূল কর্মী জানান, উনি জনপ্রিয় বিধায়ক। প্রচুর মানুষ তাঁর কাছে সাহায্য নিতে আসেন। কেন্দ্রীয় সংস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করল। গত পরশু অভিষেকের সভার পর আর সহ্য করতে পারল না। এখন আয়কর লাগিয়ে দিয়েছে।