পূর্বস্থলী, 20 ডিসেম্বর: শীত পড়তে না-পড়তেই সুদূর সাইবেরিয়া থেকে গ্রামবাংলার বিভিন্ন জায়গায় পাড়ি জমায় পরিযায়ী পাখিরা (Bird Migration in Bengal) ৷ আসলে গ্রামবাংলার শীতের অতিথি ওরা ৷ বর্ধমানের বিভিন্ন জলাশয়, দামোদর নদ, চুপি চর সহ বিভিন্ন ঝিলে স্বাভাবিক নিয়মেই শুরু হয়েছে পরিযায়ী পাখির আনাগোনা ৷ জেলার বনবিভাগ সূত্রে খবর, গতবছর এই চুপি চরে 54টি প্রজাতির প্রায় সাড়ে 8 হাজার পাখি দেখা গিয়েছিল শীতের মরশুমে ৷ কিন্তু এ বছর ব্যাপক হারে কমেছে সংখ্যাটা ৷ এরইমধ্যে কিছু পরিযায়ী পাখির মৃত্যু উদ্বেগ বাড়িয়েছে বনবিভাগের ৷
চলতি বছর নভেম্বরে বর্ধমানের দামোদরের তীরে দু'টি পন্ড হেরন, জোড়া রুডিশেল ডাক, একটি রিভার লাপওয়াইল, একটা বক প্রজাতির পাখির মৃতদেহ জলে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর ফলে ভয়ে পাখিরা জায়গা বদলাতে শুরু করে। এছাড়া বনভোজনের মরশুমে প্রচণ্ড জোরে মিউজিক সিস্টেম বাজানোর কারণেও জায়গা পরিবর্তন করছে পাখিরা। কারণ, কোলাহলের পরিবেশ পরিয়ায়ী পাখিদের পছন্দ নয় মোটেই ৷
তবে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমে যাওয়া এবং পাখিমৃত্যুর কারণ খুঁজতে বেরিয়ে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য ৷ শিকারিদের উৎপাত এবং স্থানীয়দের অবহেলার কারণে চুপির ছাড়িগঙ্গা ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে উঠছে পরিযায়ীরা (Bird migration at Purbasthali decreased due to poaching) ৷ পাখিমৃত্যুর কারণ হিসেবেও চোরাশিকারিকেই দায়ী করছেন অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সদস্য অর্ণব দাস ৷
তিনি বলেন, "বর্ধমানের দামোদর লিভার বেডের উপর প্রচুর পাখি এসেছে কিন্তু গত নভেম্বরে হঠাৎ আমিরপুর থেকে পাল্লা শ্রীরামপুর পর্যন্ত ছ'টি পাখির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মারা যাওয়ার কারণ চোরাশিকারিদের উৎপাত। 2015 সালের পর থেকে এই ধরনের ঘটনা ঘটে আসছে। এরপর থেকেই পাখির সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে পূর্বস্থলীর চুপির ছাড়িগঙ্গায়। মাঝখানে কয়েকবছর পাখি মৃত্যুর হার কম ছিল। কিন্তু চলতি বছরে প্রচুর পাখি আসতে শুরু করে। কিন্তু নভেম্বর একাধিক পাখির মৃত্যুর ফলে পাখিরা স্থান পরিবর্তন করেছে। মূলত মাংস খাওয়ার লোভেই এই পাখি শিকার চলছে।"
আরও পড়ুন: জাতীয় সড়কে গরু বোঝাই ট্রাক আটকালেন অগ্নিমিত্রা, পাচারের অভিযোগ
বর্ধমান বনবিভাগের বিভাগীয় বন আধিকারিক নিশা গোস্বামী বলেন, "শীতকালে প্রচুর পরিমাণে এখানে পাখি আসে। তবে এ বছর বেশ কিছু পাখির মৃতদের উদ্ধার করা হয়েছে। সেই পাখিগুলির ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। আমরা তদন্ত করে জানার চেষ্টা করছি কেন পাখিগুলি মারা যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় মানুষজনকে সচেতন করা হচ্ছে তারা যেন পাখি শিকার না করে। এমনকী পাখিশিকারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।"
আশ্বাস জোগাচ্ছেন বর্ধমান বনবিভাগের আধিকারিকরা ৷ লড়ছে অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ৷ কিন্তু সব চেষ্টা সত্ত্বেও কি শীতে ফের পরিয়ায়ী পাখিদের আগমনে ভরে উঠবে পূর্বস্থলীর চুপির ছাড়িগঙ্গা? উত্তর দেবে সময় ৷