ডোমজুড়, 12 জুন : ‘মুকুল বাড়ি ফিরেছে’ ৷ এবার কি তবে রাজীবের ‘প্রত্যাবর্তন’ ? আপাতত এমনই সব প্রশ্নে মজেছেন নেট-নাগরিকরা ৷ সৌজন্যে প্রায় সাড়ে তিনবছর পর মুকুল রায়ের (Mukul Roy) বিজেপি ছেড়ে ‘নেটিভ’ তৃণমূল কংগ্রেসে ফেরার আখ্যান ৷ আর তাতেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে বিগত তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী, অধুনা বিজেপি নেতা তথা একুশের বিধানসভা ভোটে ডোমজুড়ের পরাজিত গেরুয়া প্রার্থী রাজীব বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে (Rajib Banerjee) নিয়ে ৷
শোনা যাচ্ছে, রাজীব নাকি তৃণমূলের ফিরতে মরিয়া ৷ তবে এই বিষয়ে তিনি নিজে প্রকাশ্যে কিছুই বলেননি ৷ সবটাই হাওয়ায় ভাসছে ৷ আর ভাসা ভাসা এই আভাসেই ক্ষেপেছেন ডোমজুড়ের তৃণমূল নেতা, কর্মীরা ৷ রাজীব বন্দ্য়োপাধ্য়ায় এখন তাঁদের কাছে ‘গদ্দার’, ‘মীরজাফর’ ৷ তাই তিনি দলে ফিরুন, চান না ডোমজুড়ের তৃণমূলীরা ৷ এমনকী, নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এলাকায় পোস্টারও সেঁটেছেন তাঁরা ৷ তবে তাতে রাজীবের নাম উহ্য ৷
‘দিদি’র বাহিনীতে রাজীব বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ইমেজ ছিল খাঁটি ‘গুড বয়’-এর ৷ কাজের মানুষ হিসাবেও সুনাম ছিল তাঁর ৷ কিন্তু একুশের ভোটের প্রাক-মরশুমে সেই রাজীবের মুড ছিল কিছুটা যেন উড়ু উড়ু ৷ সেই সময় নিজেকে তৃণমূলের একনিষ্ট সৈনিক বলে দাবি করলেও দলের থেকে দূরত্ব বাড়ছিল তৎকালীন বনমন্ত্রীর ৷ এমনকী, তাঁর মান ভাঙাতে মাঠে নামতে হয়েছিল খোদ তৃণমূল মহাসচিবকে ৷ তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি ৷ শেষমেশ তৃণমূল ছেড়েছিলেন রাজীব ৷
ঘাসফুল ছেড়ে রাজীব যেভাবে পদ্ম বনে হাঁটা লাগিয়েছিলেন, তাও কম নাটকীয় ছিল না ৷ তৃণমূলের টিকিটে জেতা বিধায়ক পদ ছেড়ে বিধানসভা থেকে বেরোনোর সময় কেঁদে ভাসিয়েছিলেন তিনি ৷ বুকে আঁকড়ে ধরেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমোর একটা পেল্লায় ছবি !
আরও পড়ুন : নবান্নের সামনে রাজীব, মেদিনীপুরে মমতার পোস্টারের সামনে শুভেন্দুর, শুরু নতুন জল্পনা
ফ্ল্যাশব্য়াকে গিয়ে রাজীবের সেই আচরণ নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন কাটাছেঁড়া ৷ সমালোচকরা বলছেন, ওই ছবি হাতে বেরোনোটা নাকি রাজীবের হাতের পাঁচ ছিল ! মানে, বিজেপি যদি রাজ্যের ক্ষমতায় আসত, তাহলে তো রাজীবের আর ভাবনাই ছিল না ৷ কিন্তু তিনি বোধ হয় একশো শতাংশ নিশ্চিত ছিলেন না ৷ আর ছিলেন না বলেই ওই ছবি পর্ব ৷ যাতে কোনও কারণে পদ্ম ভেসে গেলে আবার ঘাসফুলের তীরে নৌকা ভিড়ানো যায় !
লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, মুকুল রায় কিন্তু দলে পড়ে দল বদলাননি ৷ তাঁর সিদ্ধান্ত ছিল একক ৷ বলা যায়, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের ‘পায়োনিয়র’ ছিলেন তিনি ৷ তাই তাঁকে রাজীব বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বা শুভেন্দু অধিকারীদের (Suvendu Adhikari) সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে চলবে না ৷ এমনকী, বিজেপি থেকে ফের ঘর ওয়াপসিতেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন সেই তিনিই ৷
মুকুল যে আরা পাঁচজনের থেকে আলাদা এবং গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ও (Mamata Banerjee) ৷ একইসঙ্গে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, চাইলেই দলবদলুদের সকলকে আর গ্রহণ করতে রাজি নয় তৃণমূল ৷ তবে কি তাঁর নিশানায় রাজীবও রয়েছেন ? না, স্পষ্ট করে তেমন কিছু বলেননি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ৷
রাজীবের নামের উল্লেখ নেই ডোমজুড়ের বাঁকড়া এলাকায় সাঁটানো পোস্টারেও ৷ তবে লক্ষ্য যে তিনিই, তা বলাই বাহুল্য ৷ তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, যাঁরা কিছুদিন আগেই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে (Abhishek Banerjee) কটু কথা বলেছিলেন, তাঁরাই ওই পোস্টারের লক্ষ্য ৷
আরও পড়ুন : ফের রাজীব বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে গো ব্য়াক স্লোগান
তবে অন্দরের কথা হল, রাজীবের বিজেপিতে যোগদান মেনে নিতে পারেননি তাঁর ছেড়ে যাওয়া বিধানসভা এলাকার বহু তৃণমূলীই ৷ আর সেই কারণেই বিজেপির টিকিটে পুরনো আসনে দাঁড়িয়েও একুশের ভোটে জিততে পারেননি ডোমজুড়ের প্রাক্তন বিধায়ক ৷ তাই মুকুলের তৃণমূলে ফেরা যতটা সহজ হয়েছে, রাজীবের পক্ষে আদৌ তা সম্ভব কিনা, সেই প্রশ্ন উঠছেই ৷ তবে প্রকাশ্যে ডোমজুড় বলছে, এক্ষেত্রে দলনেত্রীর কথাই শেষ কথা ৷