জয়নগর, 7 জুলাই: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা ৷ তারপরেই রাজ্যে হতে চলেছে পঞ্চায়েত নির্বাচন । আর তা নিয়েই এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে জেলায় জেলায় ৷ দক্ষিণ 24 পরগনাতেও বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধরা পড়েছে ব্যস্ততার ছবি । ভোটকর্মীরা নিজেদের বুথে যাচ্ছেন ৷ এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন চলছে ৷ চারিদিকে যেন এক উৎসবের আমেজ । তবে এরই মধ্যে আক্ষেপের সুর ভেসে এল দক্ষিণ 24 পরগনার জয়নগরের দক্ষিণ বারাসতের জন্মভূমি বৃদ্ধাশ্রমের থেকে ৷ সেখানকার প্রায় 30 জন আবাসিকের মধ্যে ভোটের কোনও উত্তাপ নেই ।
কেউ ভোট দিয়েছেন 15 বছর আগে ৷ কেউবা ভোট দিয়েছেন 10 বছর আগে ৷ এখন আর ভোট দিতে পারেন না তাঁরা । তার কারণ মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় বা অন্য কোনও সমস্যার জন্য পরিবারের লোকেরা তাঁদের এই বৃদ্ধাশ্রমে রেখে গিয়েছেন । এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ আর যোগাযোগও রাখেননি তাঁদের সঙ্গে । অনেককে আবার বৃদ্ধাশ্রমের কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন রাস্তাঘাটে অসহায় অবস্থায় দেখতে তাঁদের উদ্ধার করে এই বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় দিয়েছেন । তাই ভোট নিয়ে রাজ্য সরগরম হলেও, সে সবের আঁচ লাগার উপায় নেই বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের গায়ে ৷ বরং ভোট দিতে না পেরে অনেকেরই মন খারাপ ।
আরও পড়ুন: প্রতি বুথে রাখতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাফ সেকশন জওয়ান, কমিশনকে প্রস্তাব বিএসএফের
জন্মভূমি বৃদ্ধাশ্রমের কর্মকর্তা রত্নাকর হালদার বলেন, বৃদ্ধ বয়সে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের কাছে বোঝা হয়ে যায় এই মানুষগুলি । এই মানুষগুলিকে কোনও বৃদ্ধাশ্রম, নয়তো কোনও রাস্তায় ছেড়ে দিয়ে যান পরিবারের লোকেরা । অসহায় হয়ে এই মানুষগুলি দুবেলা দুমুঠো খাবারের জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে থাকেন । জন্মভূমি বৃদ্ধাশ্রমে প্রায় 30 জন এই রকম মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ রয়েছেন । এই মানুষগুলি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি ৷ কিন্তু ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম রয়েছে । মানুষগুলি যেন নেতাদের কাছেও মৃত । সরকারি উদ্যোগে বা সরকার যদি এই মানুষগুলিকে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিত, তাহলে খুব ভালো হত ।
ভোটাধিকার নাগরিকের সংবিধানসম্মত একটি অধিকার ৷ সব জনগণ যাতে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হয় প্রশাসনকে ৷ কিন্তু সমাজের এই অবহেলিত মানুষগুলো সমাজে যেন ব্রাত্যই থেকে গিয়েছেন ।