রাঁচি, 15 অগস্ট: স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতে ঝাড়খণ্ডে শহিদ হলেন দুই জওয়ান ৷ তাঁরা ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার বাহিনীর সদস্য ৷ সোমবার গভীর রাতে ঝাড়খণ্ডের চাইবাসা জেলায় পুলিশ ও মাওবাদীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় ৷ সেই সংঘর্ষেই শহিদ হন ওই দু’জন ৷ তাঁদের নাম অমিত তেওয়ারি ও গৌতম কুমার ৷ অমিত সাব ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক ছিলেন ৷ আর গৌতম ছিলেন হাবিলদার ৷
ঝাড়খণ্ডের চাইবাসা পুলিশের তরফ থেকে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে ঝাড়খণ্ড জাগুয়ারের একটি দল মাওবাদীদের বিরুদ্ধে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ফিরছিল । সেই সময় সেই দলের উপর অতর্কিত হামলা ও গুলিবর্ষণ করে মাওবাদীরা । তখন গুলিবিদ্ধ হন ইন্সপেক্টর অমিত তিওয়ারি ও গৌতম কুমার । দুজনে ঘটনাস্থলেই শহিদ হন । এর পর পুলিশ পালটা গুলি চালায় ৷ কিন্তু রাতের অন্ধকারে জঙ্গলের মধ্যে চলে যায় মাওবাদীরা ৷
শহিদ হওয়া ইন্সপেক্টর অমিত তিওয়ারি পালামুর বাসিন্দা । তিন দিন আগে তাঁর ছেলের জন্ম হয় । অমিত তিওয়ারির ছুটিতে বাড়ি ফেরার কথা ছিল ৷ বাড়িতে তিনি ফিরবেন৷ কিন্তু কফিনবন্দি হয়ে ৷ সদ্যোজাত সন্তানের মুখ আর তাঁর দেখা হল না ৷ তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যও পুলিশে চাকরি করেন ৷ অন্যদিকে গৌতম কুমারের বাবাও পুলিশে কর্মরত ছিলেন ৷ বাবার মৃত্যুর পর তিনি চাকরি পান ৷
এর আগে গত 11 অগস্ট চাইবাসার টোল্টো থানা এলাকায় মাওবাদীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর এনকাউন্টার হয়েছিল । সেদিনও প্রথমে মাওবাদীরা অতর্কিতে হামলা চালায় ৷ তার পর পালটা নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায় ৷ সেদিন সুশান্ত কুমার খুস্তিয়া নামে এক সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হন ৷ ওই দিন এক মাওবাদীর আস্তানার খোঁজ পেয়েছিল যৌথবাহিনী ৷ সেই আস্তানায় অভিযান চালাতে যাওয়ার সময় মাওবাদীদের হামলা হয় নিরাপত্তা বাহিনীর উপর ৷
আরও পড়ুন: স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, পঞ্জাব সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মৃত পাকিস্তানি