কলকাতা, 10 জানুয়ারি: বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র কারখানায় আচমকা হানা কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের । তাও আবার বিহারের মাটিতে । আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের সেই কারখানা থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম । ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ ।
এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশের এসটিএফের দায়িত্ব থাকা অতিরিক্ত নগরপাল ভি সালেমন নেশা কুমার ইটিভি ভারতকে বলেন "আমরা বিভিন্ন সোর্স মারফত খবর পেয়ে বিহার পুলিশের সাহায্যে মধুবনীতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র কারখানার হদিশ পাই এবং সেখানে গোপন অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছি ৷"
ধৃতদের বিহার থেকে কলকাতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করছে লালবাজার ৷ সূত্রের খবর, গোপন অভিযানের জন্য কলকাতা পুলিশের এসটিএফের একটি দলকে বিহারের মধুবনীতে পাঠানো হয় । সেখানে জানা যায়, একটি অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দোকানের আড়ালে অস্ত্র তৈরির কারবার চলছে । গতকাল গভীর রাতে সংশ্লিষ্ট কারখানায় অভিযান চালায় কলকাতা পুলিশ । সঙ্গে ছিল বিহার পুলিশের একটি দল । ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে 24টি পাইপ, এই পাইপগুলি দিয়ে মূলত সেভেন এমএম পিস্তল তৈরি হয় । এছাড়াও ছিল ক্রিস্টাল তৈরির মেশিন, একাধিক গুলির খোল এবং বেশকিছু আগ্নেয়াস্ত্র।
বিহারে ফের বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের কারখানার হদিশ (নিজস্ব ভিডিয়ো) এই ঘটনায় যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের নাম রাজু কুমার শাহ, রাজু কুমার চৌধুরী ওরফে বিরজু, ইফতিকার আলম ও ইশাখত আলম ৷ এঁরা প্রত্যেকেই বিহারের মধুবনীর বাসিন্দা ৷ লালবাজার সূত্রে খবর, ধৃতদের প্রাথমিকভাবে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, বিহারের মধুবনী থেকে এই সব বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র বাংলা, ওড়িশা-সহ একাধিক প্রান্তে সরবরাহ করা হয় । এই ঘটনায় বিহারের খুটাউনা থানায় অস্ত্র আইনে মামলার রুজু করেছে পুলিশ ।
মধুবনীতে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র কারখানায় তল্লাশি (নিজস্ব চিত্র) গ্রেফতার চারজন (নিজস্ব চিত্র) এর আগেও বিহারের একাধিক জায়গায় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এবং সেখানকার আগ্নেয়াস্ত্র কারখানায় কলকাতা পুলিশের আচমকা তল্লাশি অভিযানের ঘটনাও এই প্রথম নয় । গত বছরের একাধিক সময়ে কলকাতা পুলিশের এসটিএফের গোয়েন্দারা বিহারের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালান এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেন ।
বিহারে উদ্ধার বিপুল অস্ত্র (নিজস্ব চিত্র) বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র কারখানায় হানা কলকাতা পুলিশের (নিজস্ব চিত্র)