ETV Bharat / technology

টরন্টো বিমান দুর্ঘটনায় ঘটেনি প্রাণহানি, নেপথ্যে রহস্য কি ! - DELTA FLIGHT 4819 CRASH

চলতি মাসের 17 তারিখ কানাডার টরন্টো পিয়ার্সন বিমানবন্দরে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ৷ অবতরণের সময় আচমকায় উল্টে যায় যাত্রীবাহী বিমান ৷ রহস্য কি !

Etv Bharat
ভেঙে পড়েছে ডেল্টা এয়ারলাইন্সের বিমান (ছবি এপি)
author img

By ETV Bharat Tech Team

Published : Feb 22, 2025, 5:37 PM IST

হায়দরাবাদ: কয়েকদিন আগেই কানাডার টরেন্টো বিমান বন্দরে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটেছিল ৷ 17 ফেব্রুয়ারি (ভারতীয় সময়) কানাডার টরন্টো পিয়ার্সন বিমানবন্দরের ঘটনা ৷ টরন্টো পিয়ারসন বিমানবন্দরের রানওয়ে ছোঁয়ার কিছুক্ষণ আগে ডেলটার বিমানটি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে ৷ তবে ঘটনায় কোনও প্রাণহানি হয়নি ৷ ঠিক কোনও রহস্যে যাত্রীরা রক্ষা পেয়েছেন ৷ তার আগে জেনে নেওয়া যাক ঠিক কী ঘটেছিল ৷

অবতরণের সময় মাটিতে আছড়ে পড়ল বিমান ! ধরে গেল আগুন

অতীতের বিমান দূর্ঘটনার তথ্য খতিয়ে দেখলে সামনে আসে, প্রতিটি দুর্ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যাত্রীদের মৃত্যু হয়েছে ৷ তবে ব্য়তিক্রম থাকে ৷ এক্ষেত্রেও কি রহস্যে কাজ করেছে ৷ কীভাবে রক্ষা পেল 80জনের প্রাণ ৷ তবে তার আগে জেনে নেওয়া যাক ঠিক কি ঘটেছিল ৷

Delta Airlines-এর 4819 17ফেব্রুয়ারি (ভারতীয় সময়) আমেরিকার মিনিয়াপোলিস-স্ট.পল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়েছিল টরেন্টর উদ্দেশ্য । টরেন্টোয় মাটি ছোঁয়ার আগের মুহূর্তে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে বিমানে ৷ কানাডার টরেন্টর পিয়ারসন বিমানবন্দরের বোম্বার্ডিয়ার CRJ-900 রানওয়েতে দুপুর 2.30 (ভারতীয় সময়)আছড়ে পড়ে ৷ বিমানটিতে থাকা 4 জন ক্র সদস্য-সহ 76 জন যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান ৷ পরের দিন চিকিৎসকরা জানান যাত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ আঘাত ছিল ৷ পিঠে মচকানো এবং অল্প-বিস্তর আঘাত ছিল। কোনও কোনও যাত্রী বিমানে রাসয়নিক বিক্রিয়ায় সৃষ্টি গ্যাসের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন । আঘাতের ধরন খুব একটা গুরুতর ছিল না ৷

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাণ হানির ঘটনা না-ঘটার অন্যতম কারণ হল বিমানটি বিশেষ নকশা ৷ বিমানের "ক্র্যাশওয়ারথিনেস" – অর্থাৎ, দুর্ঘটনায় বিমানটিকে যতটা সম্ভব 'জীবন রক্ষা করার' মতো করে ডিজাইন করা হয়েছে ৷ তার কারণেই 80জন যাত্রী বেঁচে গিয়েছেন ৷ দুর্ঘটনার পর ব়্যাডারে ওঠা ফুটেজে দেখা গিয়েছে, উল্টানো বিমানের একটি উইংয়ের ক্ষতি হয়েছে ৷ তবে বিমানের মূল কাঠামো অক্ষত ছিল।

অবতরণের সময় যখন বিমানটিতে আগুন লেগেছিল, পাইলটরা ক্রসউইন্ডের সাহায্যে বিমানটির মুখ হাওয়ার দিকে ঘোরান ৷ যেভাবে কাঁকড়া চলা সেই কৌশলে বিমানটি অবতরণ করেন তার জেরেই রক্ষা পেয়েছন যাত্রীরা ৷

কিভাবে এটি সম্পাদন করা হয়:

  1. বিমানটির মুখ বাতাসের দিকে ঘোরানো হয়
  2. ক্র্যাব বজায় রেখে ফ্লেয়ার শুরু করেন পাইলটরা (বিশেষ উড়ান পদ্ধতি)
  3. নামার ঠিক আগে, রাডার ব্যবহার করেছিলেন
  4. উইন্ডের সঙ্গে ভেসে না যাওয়ার জন্য এলিরন ব্যবহার করা (বিশেষ উড়ান পদ্ধতি)

জ্বালানি ট্যাঙ্ক

জ্বালানি ট্যাঙ্কগুলি প্রধানত উইংয়ে সংরক্ষিত করা প্রয়োজন যাত্রী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ৷ ডেল্টার বোম্বার্ডিয়ার CRJ900 বিমানটি ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করে উল্টে যাওয়ার পর এবং রানওয়ে ধরে এগিয়ে যায় ৷ তার জ্বালানির ভর্তি ডানপাশের উইংটি ভেঙে যায় ৷ এই ঘটনায়, উইংটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের কেবিন আগুন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি ৷ এয়ারস্পেস ইঞ্জিনিয়ার জো জ্যাকবসেন জানান, যিনি বোয়িং এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর জন্য কাজ করেছেন । তিনি বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত,তাতেই রক্ষা পেয়েছন যাত্রীরা ৷

সিটটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা

16জি সিটগুলি নিরাপত্তার কথা ভেবে ডিজাইন করা হয়েছিল ৷ বর্তমানে অধিকাংশ বাণিজ্যিক বিমানকেই 16জি সিট থাকে ৷ যার মানে হল যে সেগুলি 16 গুণ গ্র্যাভিটির শক্তি সহ্য করতে সক্ষম। সিটের স্ট্যান্ড মেঝেতে একটি ট্র্যাকের যুক্ত থাকে, সেগুলি 10 ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে হেলতে পারে ৷ এই প্রসঙ্গেই কেভিন ক্যাম্পবেল, এভিয়েশন কনসাল্টিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সলিউশন্স-এর প্রতিষ্ঠাতা বলেন, "যাত্রীরা চান না যে সিটগুলি দুর্ঘটনার সময় ভেঙে যাক বা আলগা হয়ে যাক - এমনকি উল্টে গেলেও ৷

বিশেষজ্ঞরা ফ্লাইট ক্রু সদস্যদেরও প্রশংসা করেছেন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের । এই ফ্লাইটে থাকা দুইজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট উল্টানো বিমানে অবতরণ করেননি, কিন্তু সারা নেলসন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টস-সিএডব্লিউএ এর প্রেসিডেন্ট বলেছেন যে তারা অনেক পরিস্থিতির জন্য প্রশিক্ষিত ছিলেন, যার মধ্যে 90 সেকেন্ডের মধ্যে যাত্রীদের উদ্ধার করারও প্রশিক্ষণ ছিল।

হায়দরাবাদ: কয়েকদিন আগেই কানাডার টরেন্টো বিমান বন্দরে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটেছিল ৷ 17 ফেব্রুয়ারি (ভারতীয় সময়) কানাডার টরন্টো পিয়ার্সন বিমানবন্দরের ঘটনা ৷ টরন্টো পিয়ারসন বিমানবন্দরের রানওয়ে ছোঁয়ার কিছুক্ষণ আগে ডেলটার বিমানটি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে ৷ তবে ঘটনায় কোনও প্রাণহানি হয়নি ৷ ঠিক কোনও রহস্যে যাত্রীরা রক্ষা পেয়েছেন ৷ তার আগে জেনে নেওয়া যাক ঠিক কী ঘটেছিল ৷

অবতরণের সময় মাটিতে আছড়ে পড়ল বিমান ! ধরে গেল আগুন

অতীতের বিমান দূর্ঘটনার তথ্য খতিয়ে দেখলে সামনে আসে, প্রতিটি দুর্ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যাত্রীদের মৃত্যু হয়েছে ৷ তবে ব্য়তিক্রম থাকে ৷ এক্ষেত্রেও কি রহস্যে কাজ করেছে ৷ কীভাবে রক্ষা পেল 80জনের প্রাণ ৷ তবে তার আগে জেনে নেওয়া যাক ঠিক কি ঘটেছিল ৷

Delta Airlines-এর 4819 17ফেব্রুয়ারি (ভারতীয় সময়) আমেরিকার মিনিয়াপোলিস-স্ট.পল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়েছিল টরেন্টর উদ্দেশ্য । টরেন্টোয় মাটি ছোঁয়ার আগের মুহূর্তে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে বিমানে ৷ কানাডার টরেন্টর পিয়ারসন বিমানবন্দরের বোম্বার্ডিয়ার CRJ-900 রানওয়েতে দুপুর 2.30 (ভারতীয় সময়)আছড়ে পড়ে ৷ বিমানটিতে থাকা 4 জন ক্র সদস্য-সহ 76 জন যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান ৷ পরের দিন চিকিৎসকরা জানান যাত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ আঘাত ছিল ৷ পিঠে মচকানো এবং অল্প-বিস্তর আঘাত ছিল। কোনও কোনও যাত্রী বিমানে রাসয়নিক বিক্রিয়ায় সৃষ্টি গ্যাসের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন । আঘাতের ধরন খুব একটা গুরুতর ছিল না ৷

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাণ হানির ঘটনা না-ঘটার অন্যতম কারণ হল বিমানটি বিশেষ নকশা ৷ বিমানের "ক্র্যাশওয়ারথিনেস" – অর্থাৎ, দুর্ঘটনায় বিমানটিকে যতটা সম্ভব 'জীবন রক্ষা করার' মতো করে ডিজাইন করা হয়েছে ৷ তার কারণেই 80জন যাত্রী বেঁচে গিয়েছেন ৷ দুর্ঘটনার পর ব়্যাডারে ওঠা ফুটেজে দেখা গিয়েছে, উল্টানো বিমানের একটি উইংয়ের ক্ষতি হয়েছে ৷ তবে বিমানের মূল কাঠামো অক্ষত ছিল।

অবতরণের সময় যখন বিমানটিতে আগুন লেগেছিল, পাইলটরা ক্রসউইন্ডের সাহায্যে বিমানটির মুখ হাওয়ার দিকে ঘোরান ৷ যেভাবে কাঁকড়া চলা সেই কৌশলে বিমানটি অবতরণ করেন তার জেরেই রক্ষা পেয়েছন যাত্রীরা ৷

কিভাবে এটি সম্পাদন করা হয়:

  1. বিমানটির মুখ বাতাসের দিকে ঘোরানো হয়
  2. ক্র্যাব বজায় রেখে ফ্লেয়ার শুরু করেন পাইলটরা (বিশেষ উড়ান পদ্ধতি)
  3. নামার ঠিক আগে, রাডার ব্যবহার করেছিলেন
  4. উইন্ডের সঙ্গে ভেসে না যাওয়ার জন্য এলিরন ব্যবহার করা (বিশেষ উড়ান পদ্ধতি)

জ্বালানি ট্যাঙ্ক

জ্বালানি ট্যাঙ্কগুলি প্রধানত উইংয়ে সংরক্ষিত করা প্রয়োজন যাত্রী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ৷ ডেল্টার বোম্বার্ডিয়ার CRJ900 বিমানটি ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করে উল্টে যাওয়ার পর এবং রানওয়ে ধরে এগিয়ে যায় ৷ তার জ্বালানির ভর্তি ডানপাশের উইংটি ভেঙে যায় ৷ এই ঘটনায়, উইংটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের কেবিন আগুন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি ৷ এয়ারস্পেস ইঞ্জিনিয়ার জো জ্যাকবসেন জানান, যিনি বোয়িং এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর জন্য কাজ করেছেন । তিনি বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত,তাতেই রক্ষা পেয়েছন যাত্রীরা ৷

সিটটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা

16জি সিটগুলি নিরাপত্তার কথা ভেবে ডিজাইন করা হয়েছিল ৷ বর্তমানে অধিকাংশ বাণিজ্যিক বিমানকেই 16জি সিট থাকে ৷ যার মানে হল যে সেগুলি 16 গুণ গ্র্যাভিটির শক্তি সহ্য করতে সক্ষম। সিটের স্ট্যান্ড মেঝেতে একটি ট্র্যাকের যুক্ত থাকে, সেগুলি 10 ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে হেলতে পারে ৷ এই প্রসঙ্গেই কেভিন ক্যাম্পবেল, এভিয়েশন কনসাল্টিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সলিউশন্স-এর প্রতিষ্ঠাতা বলেন, "যাত্রীরা চান না যে সিটগুলি দুর্ঘটনার সময় ভেঙে যাক বা আলগা হয়ে যাক - এমনকি উল্টে গেলেও ৷

বিশেষজ্ঞরা ফ্লাইট ক্রু সদস্যদেরও প্রশংসা করেছেন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের । এই ফ্লাইটে থাকা দুইজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট উল্টানো বিমানে অবতরণ করেননি, কিন্তু সারা নেলসন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টস-সিএডব্লিউএ এর প্রেসিডেন্ট বলেছেন যে তারা অনেক পরিস্থিতির জন্য প্রশিক্ষিত ছিলেন, যার মধ্যে 90 সেকেন্ডের মধ্যে যাত্রীদের উদ্ধার করারও প্রশিক্ষণ ছিল।

ETV Bharat Logo

Copyright © 2025 Ushodaya Enterprises Pvt. Ltd., All Rights Reserved.