আসানসোল, 29 মার্চ: জেলাস্তরের সরকারি হাসপাতালগুলিতের পরিকাঠামো নড়বড়ে । নিন্দুকেরা এমন কথাই বলেন । অথচ সেই নড়বড়ে পরিকাঠামো দিয়েই অসাধ্যসাধন করলেন আসানসোল জেলা হাসপাতালের অস্থি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সমীরণ দে । অর্থ্রোস্কপি (মাইক্রোসার্জারি) করে এক ফুটবল খেলোয়াড়ের লিগামেন্ট জুড়ে দিলেন তিনি । বৃহস্পতিবার অস্ত্রোপচার করে তারপরের দিন অর্থাৎ, আজ শুক্রবার রোগীকে ছুটি দেওয়া হয়েছে ৷ কাঁটাছেঁড়া না করে সরকারি জেলা হাসপাতালে এমন চিকিৎসা প্রথমবার বলেই দাবি করেছেন ওই চিকিৎসক ।
আসানসোলের ধ্রুবডাঙা এলাকার বাসিন্দা বছর উনিশের রাহুল দাস । পাঁচ মাস আগে খেলতে গিয়ে হাঁটুতে প্রচণ্ড আঘাত পান । তার জেরেই ডান পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় রাহুলের । কিছুদিন পরে ব্যথা সেরে গেলে রাহুল ভেবেছিলেন তেমন কিছু হয়নি । পরে মাঠে নামতে গিয়ে টের পান তিনি খেলতে পারছে না । হাঁটু লক হয়ে যাচ্ছে । তারপরেই চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে জানতে পারেন লিগামেন্ট ছিঁড়ে গিয়েছে । অস্ত্রোপচার করতে বহু খরচ । সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার তাই আসানসোল জেলা হাসপাতালের শরণাপন্ন হয় । সেখানেই অস্থি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সমীরণ দে'র তত্ত্বাবধানে ভর্তি হন রাহুল ।
চিকিৎসকের কথায়, "এর আগে বেসরকারি নার্সিংহোমে মাইক্রোসার্জারি করে লিগামেন্ট জোড়ার অভিজ্ঞতা ছিল আমার । সেই অভিজ্ঞতা থেকেই হাসপাতাল সুপারের কাছে অনুমতি চেয়েছিলাম মাইক্রোসার্জারি করার । এই ধরনের চিকিৎসা আসানসোল জেলা হাসপাতালে তো বটেই জেলাস্তরের কোনও হাসপাতালেও আগে হয়নি । বৃহস্পতিবার রাহুল দাসের মাইক্রোসার্জারি করা হয়েছে । বর্তমানে সুস্থ আছেন রোগী । কয়েকদিন বিশ্রামের পরেই সাধারণ জীবনে ফিরে যেতে পারবেন তিনি ।"
আসানসোল জেলা হাসপাতালে এমন ধরনের অস্ত্রোপচারে খুশি সুপার নিখিল চন্দ্র দাস । তিনি বলেন, "এই ধরনের সাফল্যের খবরে সরকারি হাসপাতালের উপর সাধারণ মানুষের ভরসা বাড়ে । পুরো টিমকেই অভিনন্দন জানাই । স্বল্প পরিকাঠামোতে এই ধরনের চিকিৎসা সত্যিই আমাদের গর্বিত করেছে ।"
শুক্রবার রাহুল দাসকে ছুটি দিয়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ । আসানসোল জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাহুল বলেন, "আমি আবার মাঠে ফিরতে চাই । খেলতে চাই আগের মতো ।" সরকারি হাসপাতালে খেলোয়াড়ের এমন চিকিৎসায় খুশি আসানসোলের ক্রীড়ামহলও । তাঁরা আসানসোল জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ।
আরও পড়ুন :