শিলচর, 17 এপ্রিল: এবারের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে এই প্রথম রাজ্যের বাইরে গেলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ প্রচারের জন্য অসমে গিয়েছেন তিনি । সেখানে গিয়ে প্রচার সভা থেকে মমতা দাবি করেন, সর্বভারতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসই ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্ব দেবে । তাঁর দাবি, বিজেপির বিরুদ্ধে মূলত একাই লড়াই করছে তৃণমূল ।
বুধবার অসমের শিলচরে প্রথম সভায় বিজেপির বিভাজন নীতি নিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি । অসমের চার আসনে মূলত বাঙালি এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে লড়ছেন তৃণমূল প্রার্থীরা ৷ তাই সেখানে মমতার প্রচারে স্বাভাবিকভাবেই সিএএ, এনআরসি প্রসঙ্গ উঠে এসেছে ৷ শিলচরে প্রচারসভা থেকে মমতার প্রতিশ্রুতি, তৃণমূল ক্ষমতায় এলে সিএএ, এনআরসি আর অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাতিল করা হবে ।
এ রাজ্যে ইন্ডিয়া জোটের সম্ভাবনা তিনি নিজের হাতেই ভেঙে দিয়েছেন অনেক আগে। ফলে রাজ্যে একাই লড়াই করছে তৃণমূল। এরপরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দাবি করেছেন, রাজ্যে জোট না-হলেও জাতীয় ক্ষেত্রে জোট অক্ষুন্ন রয়েছে। বুধবার আরও একধাপ এগিয়ে তিনি দাবি করেছেন, জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোটকে নেতৃত্ব দেবে তৃণমূলই।
প্রসঙ্গত, অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজে মুখেই জানিয়েছিলেন যে, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না । সেখানে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় সিপিএমকে। তাঁর অভিযোগ, জোটের বৈঠক সিপিএম নিয়ন্ত্রণ করছে। ওই দলের সঙ্গে 34 বছর লড়াই করার পর তাদের কোনও পরামর্শ মানতে নারাজ মমতা ।
বুধবার সেই মর্মেই অসমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা গেল, "আপনারা একবার ঐক্যবদ্ধ হন। জোট মানে তৃণমূল। আমরাই ইন্ডিয়া-কে পথ দেখাব। বাংলায় বিজেপি-র বিরুদ্ধে একা লড়ছি। ওখানে সিপিএম এবং কংগ্রেস বিজেপিকে সমর্থন করছে। কিন্তু জাতীয় স্তরে আমরা ইন্ডিয়া জোটকে নেতৃত্ব দেব। যদি আপনাদের সমর্থন থাকে, আমরা আপনাদের কাজগুলো করে দেওয়ার চেষ্টা করব ।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ ৷ কারণ, রাজ্যে ইন্ডিয়া জোট অবস্থান পরিবর্তন না হলেও সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে হয়েছে কি না সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। প্রশ্ন হল, যত সহজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন জাতীয় ক্ষেত্রে ইন্ডিয়া জোটকে পথ দেখাবে তৃণমূল, বাস্তবে তা কতটা সম্ভব হবে ?
উল্লেখ্য, এ দিন শিলচরে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর প্রচারে মমতা বলেন, "হিংসা, ভাঁওতাবাজি ছাড়া বিজেপির কোনও গ্যারান্টি নেই। মণিপুরে মহিলাদের নগ্ন করে ঘোরানো হয়েছে, 200 গির্জা, মসজিদ জ্বালিয়ে দিয়েছে । আজও বিচার পাননি কেউ। এই মোদি বিচার দেবেন ? এখনও বিশ্বাস করেন আপনারা ? ওটা ভাঁওতাবাজ, জুমলাবাজের সরকার। মোদি কখনও কারও জন্য কিছু করবেন বলে বিশ্বাস করবেন না ।"
আরও পড়ুন: