জামালপুর, 14 জুন: সকাল থেকেই প্রচণ্ড গরমে রাস্তাঘাট কিছুটা হলেও শুনশান । হঠাৎ রাস্তায় শোনা গেল ডিজের আওয়াজ । মানুষজন হতভম্ব । এই গরমে আবার কীসের আনন্দ ! বিরক্তির চোখে সেদিকে তাকাতেই অজান্তে মানুষের হাত কপাল ছুঁয়ে নমস্কার জানায় । সামনে একটি মৃতদেহ নিয়ে চলেছেন কয়েকজন । আর পিছনে ডিজে বাজিয়ে ছেলেদের উল্লাস । শুক্রবার এমনই ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে ।
সামনে একটা ট্রাক্টরের উপরে বাজছে ডিজে সাউন্ড বক্স । পিছনে ছেলেদের সারি । তার পিছনে কাঠের খাটিয়াতে গাঁদা ও রজনীগন্ধার মালা দিয়ে চাঁদোয়া তৈরি করে সেই শয্যায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মৃতদেহ । সবাই দেদার আনন্দে মেতে উঠেছেন । কারও হাতে খড়ের বোঝা, আবার কারও হাতে লম্বা বাঁশ । কেউ কেউ আবার গানের তালে কোমর দোলাতে ব্যস্ত । পিছনে হরিবোল শব্দ না শুনলে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি না, তা বোঝা মুশকিল ।
কেমন ছিল শান্তিনিকেতনে কবির শেষ দিন ? বাইশে শ্রাবণে ইটিভি ভারতে ফিরে দেখা রবিকাহিনী
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত বৃদ্ধার নাম সম্বরী মুর্মু । তার বয়স প্রায় 115 বছর । বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লকের হুকুমপুর এলাকায় । বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বয়সজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন । শুক্রবার তিনি মারা যান । তাঁর বয়স 100 পেরিয়ে যাওয়ায় তাই নাতি-নাতনিরা আনন্দ সহকারে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেয় ৷ সেই কারণে তাঁরা ডিজে সাউন্ড ভাড়া করে ট্রাক্টরে চাপিয়ে শোভাযাত্রা বের করেন ।
এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শ্রীকান্ত মাল বলেন, "বয়স্ক মানুষ । বয়স প্রায় 115 বছর । সকলের ঠাকুমা হয় । তাই তাঁকে আনন্দ সহকারে বিদায় জানানো হচ্ছে ।" মৃতের নাতি বাপন মুর্মুর কথায়, "আমার ঠাকুমা হয় । 115 বছর বয়স হয়েছিল । উনি মারা গিয়েছেন । আমরা 30-32 জন নাতি মিলে আনন্দ করে বক্স বাজিয়ে ঠাকুমাকে সৎকার করতে নিয়ে এসেছি ।"