শিলিগুড়ি, 10 জুলাই: অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসিবাহিনীর সঙ্গে আড়িয়াদহের জয়ন্ত সিং-গ্যাংয়ের তুলনা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ৷ জয়ন্ত সিং এবং তার দলবলের 'কীর্তি'র একের পর এক ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসছে ৷ যা নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য, "আড়িয়াদহের তালতলার ঘটনা নাৎসিদের বন্দি শিবিরের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে ৷"
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মা ও ছেলেকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল জয়ন্ত সিং-গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ৷ ঘটনায় জয়ন্ত-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷ তারপর মঙ্গলবার আরও দুটি ভয়াবহ ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে ৷ সেখানে দেখা গিয়েছে, তালতলার ক্লাবঘরে চোর সন্দেহে এক মহিলার হাত-পা ধরে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হচ্ছে ৷ পাশাপাশি, অন্ধকার ঘরে তৃণমূলের কর্মীদের আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দিতে দেখা গিয়েছে আরেকটি ভিডিয়োয় ৷
আড়িয়াদহে জয়ন্ত সিং-গ্যাংয়ের বাড়বাড়ন্তকে হিটলারের নাৎসি যুগ হিসেবে তুলনা করেছেন সুকান্ত মজুমদার ৷ বুধবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, "আড়িয়াদহের তালতলা ক্লাব নিয়ে মানুষের মধ্যে এখন উৎসাহ বাড়ছে ৷ সেখানে আর কী কী হত, তা সবাই জানতে চাইছে ৷ তালতলা ক্লাবের ঘটনা নাৎসিদের বন্দিশিবিরের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে ৷ এখন প্রশ্ন হল, তাহলে কি তালতলা ক্লাবকে তৃণমূল কংগ্রেসের বন্দি শিবির হিসেবে ব্যবহার করা হত ?"
রাজ্যে চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়েছে এদিন ৷ তার অন্যতম মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্র ৷ সেখানে শাসকদলের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানো ও অশান্তি করার অভিযোগ উঠেছে ৷ চার কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে বেশ কিছু অভিযোগও জমা পড়েছে ৷ যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে রানাঘাট থেকে ৷ এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব ৷ বিরোধী দলের তরফে কমিশনে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে ৷ উপনির্বাচনে এই পরিমাণ অশান্তির ঘটনা নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি কমিশনকেই দুষেছেন ৷
সুকান্ত মজুমদার বলেন, "নির্বাচন কমিশনকে বাংলায় কোনও নির্বাচন করতে হলে, একটু আলাদা করে ভাবা উচিত ৷ এ রাজ্যকে গোটা দেশের মতো ভাবলে হবে না ৷ নির্বাচন কমিশন যদি চায় মানুষ রায় দিক, তাহলে অবশ্যই আলাদা করে চিন্তাভাবনা করা উচিৎ ৷ কারণ যেভাবে ভোট লুঠ, মারামারি, হিংসা হচ্ছে, তাতে ভোটের বদলে প্রহসন হচ্ছে ৷ চারটের মধ্যে তিনটে বিধানসভায় আমরা এগিয়ে আছি ৷ 70 শতাংশের বেশি ভোট পড়লে রায় আমাদের দিকে যাবে বলে আমি নিশ্চিত ৷"
গণপিটুনি একটি সামাজিক ব্যাধি। আমরা জানি হিংসা কোনও সমস্যার সমাধান নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। কোনও গুজবে প্রভাবিত হবেন না। কোথাও কোনও সমস্যা হলে সরাসরি পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সুরক্ষিত থাকুন। সমাজকে সুরক্ষিত রাখার ভার আপনারও ৷