নয়াদিল্লি, 17 মার্চ: লোকসভা ভোটের আগে সম্প্রতি বাতিল হয়েছে ইলেকটোরাল বন্ড ৷ সুপ্রিম কোর্ট এই বন্ডকে 'অসাংবিধানিক' বলেছে ৷ এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলিকে দেওয়া অনুদান, বিশেষত বিজেপির পাওয়া অনুদানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি ৷ শনিবার নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার রাজীব কুমার ৷
রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচনে কত টাকা অনুদান পাচ্ছে, কত টাকা খরচ করছে ? এই সব হিসেবনিকেশ নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া বাধ্যতামূলক, জানালেন রাজীব ৷ ভোটে খরচের সব হিসেবই কি পায় কমিশন ৷ অনেক টাকাই তো হিসেবের বাইরে থাকে ৷ কখনও তা নগদ অনুদান হিসেবেও পায় দলগুলি ৷ সেই হিসেব জানতে কমিশন কী করতে পারে ?
রাজীব কুমার বলেন, "গণতন্ত্রে কোনও কিছু লুকিয়ে রাখার কোনও জায়গা নেই ৷ সব তথ্য প্রকাশ্যে আনা উচিত ৷ পদ্ধতি স্বচ্ছ থাকা উচিত ৷ আমরা তা করেছি ৷ এটাই গণতান্ত্রিক নির্বাচনের প্রথম ধাপ ৷" অন্যদিকে ইলেকটোরাল বন্ডে অনুদানকারীর নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়েছিল ৷ যা নাগরিকের তথ্য জানার অধিকারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে শীর্ষ আদালত ৷
এদিকে হিসেবে না-থাকা অর্থ নিয়ে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ করছে ? এই প্রসঙ্গে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার বলেন, "ভোটে এমন টাকাও খরচ হচ্ছে, যার কোনও হিসেবনিকেশ নেই ৷ নির্বাচন চলাকালীন আমরা তা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করব ৷ কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলি হিসেবের বাইরে যে অনুদান পাচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করব কী করে ? এর জন্য সারা দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে ৷ যিনি অনুদান দিচ্ছেন, তাঁর গোপনীয়তা বজায় রাখা ৷ যাতে তাঁকে কোনও ভাবে হেনস্থা না হতে হয় ৷ এই বিষয়টিকে কীভাবে আরও বেশি স্বচ্ছ করে তোলা যায় ৷ ডিজিটাল যুগে এগুলি লুকিয়ে রাখার জায়গা নেই ৷ রাজনৈতিক অনুদান যতটা সম্ভব কমানো যায় ৷ এই সবকিছু নিয়ে ভাবতে হবে ৷ আর আমি আশা করি, আরও ভালো কোনও পদ্ধতি পাওয়া যাবে ৷"
রাজীব কুমার আরও বলেন, "যাঁরা রাজনৈতিক দলগুলিকে অনুদান দিচ্ছেন, একটা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় তাঁদের পরিচয়ের গোপনীয়তার বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে হবে ৷ এখন দেশে এই প্রশ্নটাও উঠছে ৷" তবে রাজনৈতিক দলগুলি যে অর্থ পাচ্ছে তা নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে ৷ কমিশনার বলেন, "রাজনৈতিক দলগুলি যে অনুদান পাচ্ছে, তা আমাদের জানাতে হবে, এটা বাধ্যতামূলক ৷ বছরে তারা কত টাকা পেয়েছে এবং কত টাকা খরচ করেছে ৷ একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনের পরে তাদের জানাতে হবে তারা কত টাকা খরচ করেছে ৷ আমরা সেটা কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করছি, যাতে সবাই তা জানতে পারে ৷ আর এখন সেটা ডিজিটাল হয়ে গিয়েছে ৷"
আরও পড়ুন: