কলকাতা, 7 অগস্ট: ধর্মতলা থেকে বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এবার তৎপর হল রাজ্য পরিবহণ দফতর। আর সেই মর্মে কসবার পাবলিক ভেহিকেল ডিপার্টমেন্টে সমস্ত বেসরকারি বাস ও মিনিবাস সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠকও করেন দফতরের অতিরিক্ত সচিব এবং পরিবহণ দফতরের অন্যান্য আধিকারিকরা।
2003 সালের 21 নভেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সুজাতা গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, যানজট কমাতে এবং গণপরিবহণ থেকে নির্গত দূষণ নিয়ন্ত্রণে শহরের চারটি জায়গায় আর নতুন করে কোনও বাসকে পারমিট দেওয়া যাবে না। এই চারটি জায়গায় হল সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট এরিয়া এসপ্ল্যানেড, বাবুঘাট, হাওড়া স্টেশন বা স্টেশন সংলগ্ন এলাকা এবং হাওড়া ব্রিজ অ্যাপ্রোচ এরিয়া। সেইমতো 2004 সালে একটি নোটিফিকেশনও জারি করে পরিবহণ দফতর। তারপর ওই চারটি রুটে নতুন বাস চালাবার আর কোনও পারমিট দেওয়া হয়নি। তবে তখন ধর্মতলা এলাকা থেকে বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও উল্লেখ করা হয়নি।
তবে ধর্মতলা থেকে বাস স্ট্যান্ড সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পরিবেশবিদ সুভাষ দত্তের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে, আদালত রাজ্য পরিবহণ দফতরের কাছে জানতে চেয়েছিল, যে এই বিষয় কী পদক্ষেপ করেছে দফতর ? আর এরপরই ধর্মতলা থেকে বেসরকারি বাস এবং দূরপাল্লার বাস স্থানান্তরিত করার বিষয়ে তদ্বির শুরু করেছে পরিবহণ দফতর। ধর্মতলার পরিবর্তে এই বাস স্ট্যান্ড কোথায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে এই বিষয়ে সংগঠনগুলিকে প্রস্তাব জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে দফতর। তবে কতদিনের মধ্যে জমা দিতে হবে এই প্রস্তাব পত্র সেই বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি পরিবহণ দফতর। এমনটাই বৈঠক শেষে জানিয়েছেন বাস সংগঠনের নেতারা ।
আরও পড়ুন: ধর্মতলায় মাল্টি মডেল বাস টার্মিনাস বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে, হাইকোর্টে জানাল রাজ্য
এই বিষয়ে অল বেঙ্গল বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, "ধর্মতলায় বাস রাখা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, শহরের মধ্যে পরিষেবা দিচ্ছে এমন বাস এবং মিনিবাস ধর্মতলায় আর রাখা যাবে না। কোর্টের নির্দেশকেও যেমন মান্যতা দিতে হবে তেমন যাত্রী পরিষেবা এবং মালিকদের ব্যবসাও যাতে মার না খায় সেই দিক দেখে একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে । এই কথাই আজ আমরা জানিয়েছি।ওয়েস্ট বেঙ্গল বাস এন্ড মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এই বিষয় ইতিম্যেই মামলা দায়ের করেছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপনারায়ণ বসু বলেন, "পরিবহণ দফতরের পক্ষ থেকে যতগুলি সংগঠন ছিল তাদের সকলকেই নিজেদের মতো করে ধর্মতলা থেকে বাস স্ট্যান্ড সরিয়ে নিয়ে গেলে কোথায় হতে পারে তার একটি সম্ভাব্য তালিকা দিতে বলা হয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবে এক একটি সংগঠনের এক এক রকম প্রস্তাব দেবে। যে বেসরকারি বাসগুলি শহরের মধ্যে চলে সেগুলি ধর্মতলায় পাঁচ থেকে দশ মিনিট দাঁড়িয়ে আবার বেরিয়ে যায়। এতে যানজট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ওখানে দূরপাল্লার গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি এবং দূরপাল্লার বাস ওখানে সারাদিনই প্রায় দাঁড়িয়ে থাকে। এই দুই ধরনের বাসকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। সরকারের এই বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত ।"
দূরপাল্লা বাস সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দীপু পান্ডে জানান, যে ধর্মতলার পরিবর্তে এমন জায়গা দিক রাজ্য পরিবহণ দফতর, যাতে বাস পাওয়ার ক্ষেত্রে যাত্রীদের কোনও সমস্যায় না পড়তে হয়। তেমনই বাস মালিকদেরও যাতে পর্যাপ্ত যাত্রী পেতে কোনও সমস্যা না হয়। প্রসঙ্গত, প্রায় 100 বছরেরও বেশি সময় ধরে শহিদ মিনারের নীচে রয়েছে এই বাস স্ট্যান্ড। সারাদিনে এখানে প্রায় 150 থেকে 200টি বাস আসে এবং যায়। অন্যদিকে, রাতে 70 থেকে 100টি বাস এখানে থাকে।