জেনেভা, 31 ডিসেম্বর: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রধান টেডরস আধানম ঘেব্রেয়েসাস চিনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ৷ তিনি ফের চিনে করোনা অতিমারী সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন চেয়েছেন । হু-এর ওয়েবসাইট থেকে জারি করা বিবৃতি অনুযায়ী, চিনের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নির্দিষ্ট এবং বর্তমান সময়ের তথ্য চাওয়া হয়েছে (WHO asks China to share specific real time data) ।
একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক হয় ৷ সেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও জেনেটিক সিকোয়েন্সিং তথ্য, হাসপাতালে, আইসিইউতে ভর্তি এবং মৃত্যুর পরিসংখ্যান-সহ করোনার প্রভাব সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য এবং টিকাদান ও তার বর্তমান অবস্থার তথ্য চেয়েছে (Covid Cases) ৷ বিশেষত অসুস্থ এবং 60 বছরের বেশি বয়স্ক ব্যক্তিদের সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে (WHO on China Situation) ।
হু এদিনের বৈঠকে যে সমস্ত ব্যক্তিদের গুরুতর রোগ রয়েছে তাদের সুরক্ষার জন্য টিকা এবং বুস্টার ডোজ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে বলেছে । চিনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন এবং জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ প্রশাসন হু'কে সেই দেশের করোনা থেকে বাঁচার কৌশল এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিকল্প পথ, টিকাদান, ক্লিনিক্যাল কেয়ার, যোগাযোগ এবং গবেষণা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে (COVID situation in China) ।
বৈঠকের সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চিনকে তার ক্লিনিকাল ব্যবস্থাপনা এবং করোনার প্রভাব মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেছে এবং এই ক্ষেত্রে তারা সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে । হু চিনা বিজ্ঞানীদের ক্লিনিকাল ম্যানেজমেন্ট-সহ করোনা বিশেষজ্ঞ নেটওয়ার্কে আরও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে । বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চিনা বিজ্ঞানীদের 3 জানুয়ারি SARS-CoV-2 ভাইরাস বৃদ্ধির প্রযুক্তিগত উপদেষ্টা গ্রুপের সভায় ভাইরাল সিকোয়েন্সিং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানোর কথা বলেছে ।
আরও পড়ুন: 24 ঘণ্টায় আক্রান্ত আরও 243, দেশে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে 3609
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, চিন যেন করোনা পরিস্থিতি নজরদারি করে এবং এর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিয়ে বিশ্বকে সাহায্য করে । এর আগে, বৃহস্পতিবার ঘেব্রেয়েসাস একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন ৷ সেখানে তিনি বলেছিলেন, "বিশ্বব্যাপী সংস্থা হু চিনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, কারণ ওই দেশে বিধিনিষেধ শিথিল করার পরে ফের করোনা সংক্রমণের বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে । হু ক্লিনিকাল কেয়ারের জন্য আমরা সহায়তা প্রদান জারি রাখব এবং চিনের ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে রক্ষা করব ।" দিন কয়েক আগে চিন সিদ্ধান্ত নেয় করোনার সংক্রমণ সংক্রান্ত খবর নিয়মিতভাবে আর দেবে না তারা । জানুয়ারি মাস নাগাদ আবারও এই ব্যবস্থা চালু হতে পারে। তবে তার আগেই তথ্য চেয়ে পাঠাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ।
আরও পড়ুন: চিন-সহ 6 দেশ থেকে ভারতে আসতে বাধ্যতামূলক কোভিড নেগেটিভ রিপোর্ট, নির্দেশ কেন্দ্রের