কলকাতা, 12 মার্চ : রাজ্য়ের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে প্যাঁচে ফেলতে গিয়ে 10 বছরের পুরনো খতিয়ান হাতিয়ার করল বিজেপি ৷ ‘বাসী’ তথ্য তুলে ধরে তা ‘আজকের’ বলে চালানোর চেষ্টা করল আইটি সেল ৷ ভারতে ভিক্ষুকের সংখ্যা ঠিক কত ? দেশবাসীকে তা জানাতে রাজ্য়সভায় একটি তালিকা পেশ করেন কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্য়ায়বিচার মন্ত্রী থাওয়ার চাঁদ গেহলট ৷ সেই মোতাবেক, দেশে মোট ভিখারির সংখ্যা 4 লাখ 13 হাজার 670 ৷ যার মধ্যে 81 হাজার 224 জনই হলেন এ রাজ্যের ৷ লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, সরকারি এই তথ্য হালের নয় ৷ 10 বছরের পুরনো ৷ 2011 সালের জনগণনা অনুসারে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল ৷ ভোটের মুখে সেটাকেই মমতা সরকারের ব্যর্থতা হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে বিজেপি ৷ দলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে করায় হয়েছে একটি পোস্ট ৷
বাংলায় পালাবদল হয়েছিল 2011 সালেই ৷ তার আগে এ রাজ্য়ের শাসনভার ছিল বামফ্রন্টের হাতে ৷ কাজেই ওই একই বছর প্রকাশিত এই রিপোর্টের দায় বামেদের উপরেই বর্তায় ৷ প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ভোট পেতে বাংলার মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি ? নাকি তাড়াহুড়োয় তথ্য যাচাই করতেই ভুলে গিয়েছে বিজেপির আইটি সেল ?
আরও পড়ুন : 2011 সালে সবচেয়ে বেশি ভিখারি ছিল বাংলায়
এ নিয়ে প্রশ্ন করতেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু ৷ তিনি বলেন, ভুল যদি কিছু হয়েই থাকে, তবে আইটি সেল অবশ্যই তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে ৷ একইসঙ্গে সায়ন্তনের বক্তব্য, গত 10 বছরে বাংলার হাল আরও খারাপ হয়েছে ৷ এসএসসি-তে নিয়োগের অপেক্ষায় দিন গুণছেন চাকরিপ্রার্থীরা ৷ টেট দুর্নীতি, উচ্চমাধ্যমিক ও প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মতো ঘটনা সামনে এসেছে ৷ বাড়ছে বেকারত্ব ৷ তাই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় যে উন্নয়নের কথা বলছেন, তা ভিত্তিহীন বলে দাবি সায়ন্তনের ৷
অন্যদিকে, এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ শাসকশিবির ৷ তৃণমূলের দুই নেত্রী শশী পাঁজা এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই প্রসঙ্গে বলেন, একটা সরকার যে কতখানি মিথ্যেবাদী হতে পারে, তার প্রমাণ বিজেপি ৷ বাম জমানার দায় তারা মমতার সরকারের উপর চাপানোর চেষ্টা করছে ৷