আসানসোল, 19 জুন : নাগাড়ে বৃষ্টি ৷ আর তার ফলে জল ঢুকতে শুরু করল আসানসোলের নরসমুদা কয়লা খনিতে। খনির পাশেই গজিয়ে ওঠা বেআইনি কয়লা খনি দিয়ে জল ঢুকেছে বলেই অভিযোগ ৷ যদিও, ভাগ্যক্রমে কোনও প্রাণহানি ঘটেনি ৷ দ্রুত নরসমুদা কয়লা খনিতে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ৷ পরিস্থিতি নিরিখে আপাতত খনির কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে ৷ কবে, ফের কাজ শুরু হবে তা এখনও অনিশ্চিত ৷
জল কী ভাবে ঢুকল সে বিষয়ে নরসমুদা কয়লা খনির ম্যানেজার নন্দদুলাল সিংহ বলেন, ‘‘কোলিয়ারির চারপাশে তাকিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে কী ভাবে অবৈধ খনি গজিয়ে উঠেছে। সেই অবৈধ খনিগুলি অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরি করার হয়েছে। কোনও নিয়ম বা নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে বিপদ বাড়ছে বৈধ খনির ।’’ আসলে, ইসিএল সোদপুর এরিয়ার নরসমুদা খনির পাশেই দিঘারি অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল প্রচুর বেআইনি কয়লা খাদান। গত চার দিনের টানা বর্ষণে জল জমেছে আশেপাশের এলাকায় । মাঠে জমে থাকা জল এই বেআইনি কয়লা খাদানের খনি মুখ দিয়ে জল ঢুকতে শুরু করে ৷ সেই জলের গতি এতটাই বেশি ছিল যে একেবারে সরাসরি তা ইসিএলের নরসমুদা খনির ভেতরে চলে আসে।
খনি শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সকালের শিফটে কাজ করতে এসেই বিপদের আঁচ পাওয়া গিয়েছিল ৷ খনিতে জল ঢুকতে দেখেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে থাকে ৷ উপরে খবর পাঠানো হয় ৷ তড়িঘড়ি ডুলি দিয়ে শ্রমিকদের উপরে তুলে আনা হয় ৷ শ্রমিকদের উদ্ধার করা গেলেও বহু টাকার যন্ত্রাংশ জলে ডুবে যায় ৷ আশঙ্কা করা হচ্ছে, জলের ডুবে থাকার কারণে, বহু যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে ৷

আরও পড়ুন : বৃষ্টির জেরে কাঁকসায় সবজি চাষে ব্যাপক ক্ষতি
বেআইনি কয়লা খনির দিকে আঙুল তোলার পাশাপাশি নন্দদুলাল সিংহের অভিযোগ, বিষয়টি আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে জেলাশাসক সবাইকে জানানো হয়েছে ৷ কিন্তু, তেমন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি ৷ আপাতত ইসিএলের পে লোডার দিয়ে বেআইনি খনি মুখগুলি বোজানোর চেষ্টা চলছে। গোটা ঘটনায় ইসিএল কর্তৃপক্ষকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন শ্রমিক নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ রামচন্দ্র সিং। তিনি বলেছেন, "ইসিএল কর্তৃপক্ষের মদতেই বেআইনি কয়লাখনি চলছিল এবং যার ফলে কিন্তু এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর বেআইনি খনি মুখ দিয়ে জল ঢুকেছে ইসিএলের খনির ভেতরে ।’’
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চললেও কবে থেকে খনি আবার চালু হবে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন ৷