জলপাইগুড়ি, 5 এপ্রিল : নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জিনিসের দাম হু হু করে বেড়েই চলেছে ভুটানে। ডিম থেকে কাঁচালঙ্কা, সবেরই দাম আকাশছোঁয়া। করোনা সংক্রমণের জেরে লকডাউন ছিল বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই ৷ ভুটানও অন্যথা নয়। ভুটানে ডিমের উৎপাদনে ঘাটতি হওয়ার ফলে চরম সমস্যা দেখা যাচ্ছে। যদিও ভুটান সরকার এ সমস্যা সমাধানের আপ্রাণ চেষ্টা করছে (Commodity price hike in bhutan on corona pandemic) ।
ভুটানে যত শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে বর্তমানে সেই শ্রমিক নেই। ফলে ভুটানের উন্নয়নমূলক কাজও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে । ভুটানে না ঢুকতে পেরে ভারতীয় শ্রমিকরা অন্য জায়গায় কাজ খুঁজে নিয়েছেন ৷ ভুটান সরকার চাইছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে লাগাম টানতে। ইতিমধ্যেই ভারত থেকে ডিম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভুটান সরকার। ভুটানে ডিমের উৎপাদনে ঘাটতি হওয়ার ফলে তামিলনাড়ু-সহ বেশ কিছু রাজ্য থেকে ডিম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভুটান সরকার।
এবার আসা যাক সবজিতে ৷ ভুটানে কাঁচালঙ্কার দাম প্রায় 600 টাকা কেজি। ভারত থেকে মাত্র 10 শতাংশ সবজি আমদানি করছে ভুটান সরকার। কিন্তু বাকি খাদ্যশস্য বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কোথা থেকে সংগ্রহ করছে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
আরও পড়ুন : Bhutan Gate Closed : আড়াই বছর বন্ধ ভুটান গেট ! চামুর্চিতে বিপাকে ব্যবসায়ীরা
ভুটানের কৃষি মন্ত্রালয়ের তথ্য অনুযায়ী সম্প্রতি ভুটানের ডিমের উৎপাদন 38 লক্ষ 2 হাজার 90 থেকে কমে 1 লক্ষ 20 হাজার 723 হয়েছে ৷ অর্থাৎ 68 শতাংশ কমে গিয়েছে। সম্প্রতি ভুটানে প্রায় 48 হাজার মুরগি বিভিন্ন কারণে মারা যায়। অন্যদিকে একটি বাচ্চা মুরগি ডিম পারতে সময় নেয় পাঁচ মাস। সেই ঘাটতি পূরণে এখনও সময় লাগবে।
ভুটান দেশের সর্বোচ্চ ডিম উৎপাদনকারী জেলা সিরাং। সাম্প্রতিককালে মুরগির বিশেষ রোগের ফলে বেশিরভাগ মুরগি ডিম দিচ্ছে না। বিভিন্ন কারণে মারা যাচ্ছে বা অসুস্থ হচ্ছে । এই কারণে মুরগির ডিমের এক একটি ট্রে 500 টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। যা ভুটান সরকার লাগাম টানার চেষ্টা করছে।
চামুর্চি ভুটান গেট দিয়ে ভুটানে কাজের জন্য প্রায় 3 হজার শ্রমিক যেতেন। কিন্তু লকডাউনের পর থেকে ভুটানে শ্রমিকদের যাতায়াত বন্ধ। বর্তমানে ভুটানে লকডাউন উঠে গেলেও যে সমস্ত শ্রমিক ভুটানে যাচ্ছেন, তাঁদের 7 দিন করে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হচ্ছে। যার তত্বাবধানে শ্রমিকরা যাচ্ছেন তাঁকে জনপ্রতি কোয়ারেন্টাইনে শ্রমিক রাখতে 8 হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন : Water Problem in Ghatal : তিন বছর ধরে পানীয় জলের চরম সমস্যা, ময়দানে সিপিএম
ভুটানে বিশেষ করে জুস ফ্যাক্টরি, আর্মি ওয়েলফেয়ার প্রজেক্ট-সহ ওয়াইন ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকরা যাচ্ছেন। জুস ফ্যাক্টরিতে আগে 300 জন শ্রমিক প্রতিদিন যেতেন। এখন সেটা শূন্যতে দাঁড়িয়েছে। সেই সব ভারতীয় শ্রমিকরা এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
চামুর্চি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মহম্মদ লালন বলেন, "আমরাও যেমন ভাল নেই। তেমনই ভুটানের মানুষরাও ভাল নেই। ভুটানের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েই চলেছে। ভুটানে ভারত থেকে সব জিনিস রপ্তানি হচ্ছে না। ফলে ভুটান যে পরিমাণ চাহিদা, সেই পরিমাণ চাহিদা মেটাতে পারছে না। ভুটানে জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গিয়েছে। "