কোঝিকোড়, 8 অগাস্ট : টেক অফের আগে তড়িঘড়ি কেটে দিতে হয়েছিল ফোনটা । বলেছিলেন, বিমান থেকে নেমেই বাকি কথা হবে ।
ফোন এল । একটু আগে । কিন্তু, ওপারের কণ্ঠস্বর পালটে গিয়েছে । কিছু বুঝে ওঠার আগেই যেন একটা ফোন বদলে দিল বাড়ির পরিবেশ ।
প্রথমে ফোনে জানানো হল গুরুতর আহত কো-পাইলট অখিলেশ কুমার । কিছু পরই দ্বিতীয় ফোন । জানানো হল মারা গিয়েছেন অখিলেশ ।
খবরটা স্ত্রী মেঘাকে জানাতে সাহস পাননি পরিবারের লোকজন । সপ্তাহ দুয়েক পরই তাঁর সন্তান জন্ম দেওয়ার তারিখ । দিনে বেশ কয়েকবার ফোন করে স্ত্রীর খোঁজ খবর করতেন অখিলেশ । শুক্রবার সন্ধাতেও কথা হয়েছিল । বাকি কথা রাতে হবে বলে সে-যাত্রায় ফোন কেটেছিলেন তিনি ।
গত সন্ধ্যায় 7টা 40 মিনিটে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস IX-1344, B 737 । বন্দে ভারত মিশনে দুবাই থেকে কালিকট ফিরছিল বিমানটি । খাদে পড়ে দুই টুকরো হয়ে যায় । পাইলট দীপক শাঠে এবং কো-পাইলট অখিলেশ কুমারের মৃত্যু হয় । দীপক এবং অখিলেশ-সহ মোট 18 জনের মৃত্যু হয়েছে এখনও পর্যন্ত ।
2017 সালে এয়ার ইন্ডিয়ায় যোগ দিয়েছিলেন অখিলেশ । লকডাউনের আগে শেষবার বাড়ি ফিরেছিলেন । বন্দে ভারত মিশনে বিমান চালনার দায়িত্বে ছিলেন । তিনি এবং অন্য বিমান কর্মীদের 8মে বিমানবন্দরে 'হিরো'-র মতো স্বাগত জানানো হয়েছিল ।
অখিলেশের বাবা জানান, গত রাতে বিমান কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁদের ফোন করা হয় । দুর্ঘটনায় অখিলেশের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয় । কিছুক্ষণ পর আবার ফোন আসে । অখিলেশের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয় পরিবারকে । তাঁর ছোটো ভাই এবং শ্যালক কেরালা গিয়েছেন ।
কো-পাইলটের পরিবারে রয়েছেন তাঁর বাবা-মা, ভাই,বোন । রয়েছেন তাঁর স্ত্রী মেঘা । তিনি অন্তঃসত্ত্বা । আর 15 থেকে 17দিন পরেই তাঁর প্রসবের দিন ঠিক হয়েছে । অখিলেশের ভাই বাসুদেব জানান, "খুব ভাল মানুষ ছিলেন অখিলেশ । ভালো ব্যবহার করতেন । "
নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা ছিল আগেই, বিমান-ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার ব্ল্যাক বক্স
অখিলেশের মৃত্যুর খবর আসার পরেই কেরালা যান তাঁর দুই ভাই । ভেঙে পড়েছেন অখিলেশের বাবা-মা । লকডাউনের আগে শেষবার দেখা হয়েছিল ছেলের সঙ্গে । গত রাতের ফোন বদলে দিয়েছে অখিলেশের বাড়ির পরিবেশ ।
কোঝিকোড় বিমান দুর্ঘটনা : মৃতদের পরিবারপিছু 10 লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা