কলকাতা, 23 জানুয়ারি: চলতি বছরে 12 ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্য বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন শুরু হতে পারে। নবান্ন সূত্র থেকে এমনটাই জানা গিয়েছে ৷ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন 1 ফেব্রুয়ারি সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করবেন। তবে রাজ্য বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন শুরু হবে আরও বেশ কয়েকদিন পরে। পশ্চিমবঙ্গে এবারের বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ এবারের এই বাজেট হবে পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট ৷ ফলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে একাধিক ঘোষণা এবং চমক থাকতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিকমহল ৷
রাজ্যের অর্থ দফতরের এক আধিকারিক জানান, আগে ঠিক ছিল এই বছরে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে 7 ফেব্রুয়ারি। কিন্তু পরে 12 ফেব্রুয়ারি অধিবেশনের সম্ভাব্য প্রথম দিন হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছে, তিনি উত্তরবঙ্গ শহর থেকে ফিরলেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
ওই আধিকারিক আরও জানান, যেহেতু এটি আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট, তাই মহিলা ও যুবকদের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং অন্যান্য প্রকল্পগুলির জন্য বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়েও চমক থাকতে পারে।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য এবারের বাজেটে সুখবর থাকতে পারে। এবার বাজেট থেকে আরও একবার সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণাও হতে পারে বলে মনে করছ ওয়াকিবহালমহল। এই ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনার বিষয়। কারণ এই মুহূর্তে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে মহার্ঘ ভাতার মধ্যে ব্যবধান বিস্তর। ইতিমধ্যেই এই মহার্ঘ ভাতা নিয়ে একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তারপরেও প্রত্যেক বছর বাজেট আসলেই সরকারি কর্মচারীদের নজর থাকে বাজেটের ঘোষণার দিকেই। কারণ তথ্য বলছে, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীরা এই মুহূর্তে 14 শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন ৷ আর কেন্দ্রীয় সরকার কর্মচারীরা 54 শতাংশ ডিএ পান।
এছাড়াও এবারের বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে আরও একবার নজর থাকবে এই অধিবেশন রাজ্যপালের ভাষণ ছাড়াই শুরু হয় কি না সেদিকেও। গত বছরও রাজ্যে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছিল রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের ভাষণ ছাড়াই। সেই সময় তা নিয়ে কম জলখোলা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যপাল নিজেই জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে সম্পর্কে উন্নতি করতে চান তিনি।
সাম্প্রতিক গতিবিধিতে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতের ছবি কিছুটা হলেও বরফ গলেছে বলে মত রাজনৈতিকমহলের। এই অবস্থায় রাজ্যপালকে ছাড়া বাজেট অধিবেশন হয় কি না, সেদিকে সকলের নজর থাকবে ৷ শেষ পর্যন্ত তাই যদি হয়, তাহলে আবার তা নতুন করে বিতর্কের ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে ৷