কলকাতা, 11 অক্টোবর:এখন যান্ত্রিক যুগ ৷ মাটি কাটা থেকে জিনিস তৈরি, সবকিছুই হয়ে যাচ্ছে যন্ত্রের সাহায্যে ৷ যার ফলে দিনে দিনে ব্যবহার কমছে মানুষের দু'খানা বলিষ্ঠ হাতের কাজের ৷ যন্ত্রের বাড়বাড়ন্তের জেরে তাই অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে তাঁত, নকশী কাঁথা, টেরাকোটা, ডোকরা, বেত, মুখোশ, মাটির পুতুল, পটচিত্র ও খড়ের কাজের মত একাধিক হস্তশিল্প ৷ এই যন্ত্রনির্ভর যুগে লড়াইয়ের ময়দানে প্রায় হারিয়ে যাওয়া সেই সব কুটির ও হস্তশিল্পকেই আরও একবার মানুষজনের কাছে তুলে ধরতে চলেছে কুমোরটুলি সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি । 93 বর্ষে এবার তাদের বিষয় ভাবনা হল- লড়াই ।
যন্ত্রের বাড় বাড়ন্তের কাছে হস্তশিল্পের অস্তিত্ব টিকে থাকার লড়াই । এই বিষয় ভাবনাকে বাস্তবে মণ্ডপ জুড়ে ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পী সুবল পাল । গোটা বিষয়কে মাথায় রেখেই প্রতিমার রূপ দিচ্ছেন শিল্পী নব পাল । মণ্ডপের বাইরে একটা অংশ থাকবে কাঁথা স্টিজ দিয়ে সাজানো । অপর অংশ সাজানো হয়েছে খড়ের নানা কাজ দিয়ে । মণ্ডপের ভিতরে ঢুকলে থাকছে হাতে বোনা তাঁত যন্ত্র । থাকবে টেরাকোটার নানা ধরনের পুতুলও । মণ্ডপে ঢুকেই মাথার উপর তাকালেই দেখতে পাওয়া যাবে একটি পটচিত্র, যা মা দুর্গার কাছে গিয়ে শেষ হয়েছে । সেখানে দুর্গার একাধিক রূপ ফুটে উঠবে, ঠিক যেমন পট শিল্পীরা ফুটিয়ে তোলেন । থাকবে বেতে বোনা নানা কাজও । আর এক দিকে যেমন থাকবে শুধু হাত । অন্য দিকে থাকবে যন্ত্রচালিত হাত, যা নড়াচড়া করবে ।