কলকাতা, 3 জানুয়ারি: মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Monda) জামিন সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিস্ফোরক দাবি করলেন সিবিআই আইনজীবী ৷ বীরভূমের এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা জেলে বসেই সিবিআই আধিকারিকদের হুমকি দিচ্ছেন বলে এদিন আদালতে দাবি করেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আইনজীবী টিপি সিং (Anubrata Mondal is giving threat to investigation officers claimed CBI) ৷
গরুপাচার মামলায় (WB cattle smuggling case) সিবিআই'য়ের হাতে ধৃত তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের জামিনের (Anubrata Monda bail plea) আবেদন সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষ হয়েছে এদিন ৷ শুনানি শেষে অবশ্য রায়দান স্থগিত রেখেছে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ । বুধ অথবা বৃহস্পতিবার এই মামলার রায়দান করা হতে পারে ।
আরও পড়ুন:ছাত্রদের থেকে টাকা নিয়ে রসিদ দিতেন না মানিক, সিবিআইকে জানালেন তাপস
অনুব্রত মণ্ডলের জামিন সংক্রান্ত মামলায় সিবিআই জামিনের বিরুদ্ধে যুক্তি দিলেও তার পর্যাপ্ত তথ্য কেন নেই তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি । সিবিআইয়ের আইনজীবী আদালতে বারবার নানারকম তথ্য দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন, গরুপাচার চক্র রমরমিয়ে চলতো অনুব্রত মণ্ডলের মদতেই এবং তার সব থেকে বেশি সুফল পেয়েছন তিনিই ।
যদিও সিবিআই আইনজীবীর এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন অনুব্রত মণ্ডলের আইনজীবী কপিল সিব্বল ৷ তিনি পালটা জানান, সিবিআই যে অভিযোগ করছে তার পক্ষে তাদের হাতে পর্যাপ্ত প্রমাণ কই ! তাঁর দাবি, "গরুপাচার সংক্রান্ত মামলায় নিম্ন আদালতে চার্জশিট পেশ হয়ে গিয়েছে আগেই । যারা মূল অভিযুক্ত তারা আগেই জামিনে মুক্ত । তাহলে অনুব্রত মণ্ডলকে কেন এখনও জেলে থাকতে হচ্ছে ?"
অনুব্রত মণ্ডলের তরফে আইনজীবী কপিল সিব্বল এদিন হাইকোর্টে আরও বলেন, "আমরা সাক্ষীকে ভয় দেখিয়েছি বলে যে দাবি করা হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয় । এর প্রমাণ কই ? কল রেকর্ড কই ? নিম্ন আদালতের বিচারপতিকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে সে ব্যাপারে রাজ্য যা বলার বলবে । পাচারের টাকা লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে বারবার । কিন্তু প্রমাণ কই ? গরুপাচার মামলায় ইতিমধ্যেই চার্জশিট পেশ হয়ে গিয়েছে । বিএসএফ আধিকারিক সতীশ কুমার গরুপাচার কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত, তিনি জামিন পেয়ে গিয়েছেন । পাশাপাশি, মূল অভিযুক্ত এনামুল হকও জামিন পেয়েছেন ।"
আরও পড়ুন: কাশ্মীর শুধরে গিয়েছে, বাংলা কাশ্মীর হয়ে যাচ্ছে, বন্দে ভারতে হামলা নিয়ে কটাক্ষ দিলীপের
এর পালটা সিবিআই'য়ের আইনজীবী টিপি সিং বলেন, "সায়গল হোসেসের নামে দুটি মোবাইল নম্বর পাওয়া গিয়েছে, যেগুলি আদতে ব্যবহার করতেন অনুব্রত মণ্ডল । এছাড়া এনামুল হকের নামে গরু বিক্রির ফলস রসিদ বানানো হত । এনামুল হক একটা সংগঠন বানিয়েছিলেন, মুর্শিদাবাদ বর্ডার দিয়ে বাংলাদেশে গরু পাচারের একটা বিরাট চক্র তৈরি করেছিলেন তিনি ।"
এরপর বিচারপতি জানতে চান, অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী ? জবাবে সিবিআইয়ের আইনজীবী বলেন, "গরুপাচার এবং সরকারি আধিকারিকদের ঘুষ দিয়ে এই কাজ করা হত । 102 বি, 108 ও 31ডি ধারায় মামলা দায়ের করা হয় অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে ৷ শুল্ক আইনে মামলা হয় । মন্টু মালিক নামে এক ব্যাক্তি ব্যাকডেটেড বিল বানিয়ে দিত । আবদুল লতিফের হাত দিয়ে টাকা যেত সায়গল হোসেনের কাছে । সায়গল হোসেন সেই টাকা পৌঁছে দিত অনুব্রত মণ্ডলের হাতে ।" বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, "কিন্তু প্রমাণ কই ? আসলে আপনাদের একহাত রয়েছে দিল্লিতে । আর এক হাত রয়েছে কলকাতায় । এখানকার আধিকারিকদের ভালো করে তদন্ত করতে বলুন । যাদের কথা বলা হচ্ছ তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে ?"
এর জবাবে সিবিআইয়ের আইনজীবী বলেন,"অনুব্রত মণ্ডল জেলে বসেই সিবিআই আধিকারিকদের হুমকি দিচ্ছেন ।" বিচারপতি পাল্টা বলেন,"অনুব্রত মণ্ডল জেলে বসে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ কিন্তু তার প্রমাণ লাগবে না ? টেলিফোনিক কথপোকথনের প্রমাণ কই ?" এদিন বিচারপতি আরও বলেন, "আপনাদের হেফাজতে একজন লোক মারা গেলেও সেটা আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় একেবারেই।" সিবিআই আইনজীবী এর জবাবে বলেন, "যে অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন তাদের ইতিমধ্যেই শো-কজ করা হয়েছে ।"
দুবরাজপুরের তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় এতদিন পরে কেন তদন্ত হচ্ছে সেই প্রশ্নও এদিন রাজ্যের উদ্দেশে তোলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি । "দুবরাজপুরের তৃণমূল কর্মীকে গলা টিপে খুন করার চেষ্টার ঘটনায় রাজ্য সরকারের তদন্ত করতে কেন এতদিন সময় লাগলো, পুলিশ হেফাজতে থাকার সময় কি অনুব্রত মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে ?" বিচারপতি জানতে চান রাজ্যের আইনজীবীর কাছে । যদিও রাজ্যের আইনজীবীর জবাব সন্তোষজনক মনে হয়নি তাঁর । শেষে অনুব্রত মণ্ডলের আইনজীবী কপিল সিব্বল ফের প্রশ্ন বলেন, "ওনার বিরুদ্ধে স্মাগলিংয়ের অভিযোগ কিন্তু প্রমাণ নেই । তোলাবাজির অভিযোগের প্রমান নেই । আবদুল লতিফ নামে যে ব্যাক্তির কথা বলা হচ্ছে তার বক্তব্যের রেকর্ড কই ?"