কুমারগঞ্জ, 7 অক্টোবর: দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জের আমুলিয়া গ্রাম । যা কার্পেট গ্রাম বলেই বেশি পরিচিত । এই গ্রামের প্রায় 150 থেকে 200 পরিবার বর্তমানে কার্পেট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত । শুধু পুরুষ নয়, বিকল্প রোজগার ও পরিবারকে সাহায্য করতে এই গ্রামের মহিলারাও কার্পেট তৈরির কাজে হাত লাগিয়েছেন । তবে কোরোনা ও লকডাউনের জন্য দীর্ঘ কয়েক মাস কাজ ছিল না শিল্পীদের । জেলার তাঁত শিল্পের মতো এই শিল্পকে নিয়েও যাতে সরকার পরিকল্পনা নেয়, তার আর্জি জানিয়েছে তারা ।
বছর কয়েক আগে গ্রামের কয়েকজন যুবক বারাণসীতে গিয়ে শিখে এসেছিল কার্পেট তৈরির কাজ । উদ্দেশ্য ছিল, নিজ এলাকায় কার্পেট শিল্প গড়ে তোলা । সরকারি সাহায্য পাবেন বলেও আশা ছিল শিল্পীদের । ওই চার-পাঁচজন শিল্পীই গ্রামে ফিরে কার্পেট তৈরি শুরু করে । যা ধীরে ধীরে রপ্ত করে ফেলে বাড়ির মহিলারও । নিজেদের কাজের ফাঁকে তারাও এই কার্পেট তৈরিতে হাত লাগায় । এখন মহিলারাই প্রধান ভরসা হয়েছে কার্পেট তৈরিতে । কার্পেট তৈরির সব ধরনের কাঁচামাল আসে বারাণসী থেকে । কম্পানিও বারাণসীর । তারাই কাজের বরাত দেয় । এক একটা কার্পেট বিভিন্ন মাপের হয় ৷ 10 স্কোয়ার ফিটের একটা কার্পেট তৈরিতে তিন জন শিল্পীর 30-45 দিন সময় লাগে । এই মাপের একটি সম্পূর্ণ কার্পেট তৈরি করে বারাণসীতে পাঠালে পারিশ্রমিক বাবদ 20 থেকে 30 হাজার টাকা মেলে । দিন হিসেবে ধরলে 160-200 টাকা পান শিল্পীরা । যাতে কোনওরকমে সংসার চলে যায় তাদের ।
এদিকে কোরোনা ও লকডাউনের জেরে মার্চের শেষ থেকে কাজের বরাত পাননি দক্ষিণ আমুলিয়ার কার্পেট শিল্পীরা । কারণ সে সময় যানচলাচল বন্ধ থাকায় বারাণসী থেকে কাঁচামাল এসে পৌঁছাতে পারেনি । লকডাউন পর্ব উঠতেই মাসখানেক আগে থেকে ফের কাজের বরাত পেতে শুরু করেছেন শিল্পীরা ৷ তবে পরিশ্রম অনুযায়ী উপার্জন হয় না বলেই অভিযোগ কার্পেট শিল্পীদের । তাই সরকারি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন হস্তশিল্পীরা । না হলে এই শিল্প খুব শীঘ্রই বিলুপ্তির পথে চলে যাবে বলে আশঙ্কায় তাঁরা ।