পশ্চিমবঙ্গ

west bengal

"হাসির আলো"য় ফ্রি বিদ্যুৎ,"চা-সুন্দরী"-তে বাসস্থান ; মন জয়ের চেষ্টা বাজেটে

By

Published : Feb 10, 2020, 10:01 PM IST

Updated : Feb 10, 2020, 11:47 PM IST

তপশিলি জাতি-উপজাতি থেকে দারিদ্রসীমার নিচে থাকা গরিব মানুষ ৷ চা বাগানের শ্রমিক, প্রবীণ ব্যক্তি সবার মন জয়ের চেষ্টা রাজ্য বাজেটে । আর্থিকভাবে দারিদ্রসীমার নিচে ধাকা গরিবদের জন্য মমতা সরকারের ঘোষণা "হাসির আলো"য় ফ্রি বিদ্যুৎ । বাজেটে চা-শ্রমিকদের জন্য় স্থায়ী বাসস্থান দিতে মমতার ঘোষণা "চা-সুন্দরী" প্রকল্প । আগামী তিন বছর গৃহহীন চা শ্রমিকদের জন্য স্থায়ী বাসস্থান দেবে সরকার ।"বন্ধু" প্রকল্পে প্রবীণ তপশিলি জাতির মানুষদের পেনশন দেবে রাজ্য সরকার ।তপশিলি উপজাতি ও আদিবাসী প্রবীণদের জন্য "জয়-জহার" প্পকল্পের ঘোষণা করেন । বেকারত্বের হার কমাতে "বাংলাশ্রী ও কর্মসাথী" ৷

State budget
পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল সবার মন জয়ের চেষ্টা বাজেটে

কলকাতা, 10 ফেব্রুয়ারি : "হাসির আলো"য় ফ্রি বিদ্যুৎ । বিধানসভা ভোটের আগে কল্পতরু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার । রাজ্যের তপশিলি জাতি-উপজাতি থেকে দারিদ্রসীমার নিচে থাকা গরিব মানুষ, চা বাগানের শ্রমিক, প্রবীণ ব্যক্তি সবার মন জয়ের চেষ্টা দেখা গেল এই বাজেটে ।

হাসির আলো

কিছুদিন আগে দিল্লি ভোটের আগে বিদ্যুতের দাম 200 ইউনিট পর্যন্ত নিঃশুল্ক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল । 2021-এ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে বিদ্যুতে স্বস্তি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তবে সমস্ত আমজনতার জন্য নয় । আর্থিক ভাবে দারিদ্রসীমার নিচে থাকা গরিবদের জন্যই মমতা সরকারের এই ঘোষণা । সোমবার বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র বলেন, দারিদ্রসীমার নিচে থাকা গরিব মানুষ যাদের ত্রৈমাসিক বিদ্যুতের খরচ 75 ইউনিট তাঁদের বিদ্যুৎ বিল সম্পূর্ণ মকুব করা হবে ।

চা-সুন্দরী

লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয় হয় । বিধানসভা ভোটের আগে পাহাড়ের মন জয় করতে চেষ্ঠা করলেন মুখ্যমন্ত্রী । এবারের বাজেটে চা-শ্রমিকদের জন্য় স্থায়ী বাসস্থান দিতে মমতার ঘোষণা "চা-সুন্দরী" প্রকল্প । অমিত মিত্র বলেন, "রাজ্যে প্রায় 370টি চা বাগান আছে । এই চা বাগানে প্রায় তিন লাখ শ্রমিক কাজ করেন । এই শ্রমিকদের মধ্যে 50 শতাংশ মহিলা। আগামী তিন বছর গৃহহীন চা শ্রমিকদের জন্য স্থায়ী বাসস্থান দেবে সরকার ।" এজন্য 500 কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে রাজ্য বাজেটে ।

বন্ধু ও জয় জহার
জঙ্গলমহলের মানুষের কাছে হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে চায় তৃণমূল সরকার । লোকসভা ভোটে পাহাড়ের পাশাপাশি জঙ্গলমহলেও ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল । এবারের বাজেটে জঙ্গলমহলের দরিদ্র মানুষ 75 ইউনিট পর্যন্ত ফ্রি-বিদ্যুতের সুবিধা পাবেন । অন্যদিকে "বন্ধু" প্রকল্পে প্রবীণ তপশিলি জাতির মানুষকে পেনশন দেবে রাজ্য সরকার । 60 বছরের উপরের তপশিলি জাতি মানুষকে বন্ধু প্রকল্পে মাসিক 1 হাজার টাকা করে বার্ধক্য ভাতা দেবার ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী । এই প্রকল্পের ফলে প্রায় 21 লাখ লোক উপকৃত হবেন । এই খাতে 2500 কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী ।
অন্যদিকে তপশিলি উপজাতি ও আদিবাসীর প্রবীণদের জন্যও পেনশন ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী । আজ বাজেটে অমিত মিত্র তপশিলি উপজাতি ও আদিবাসী প্রবীণদের জন্য "জয়-জহার" প্রকল্পের ঘোষণা করেন । 60 বছরের বেশি বয়স্করা মাসিক 1 হাজার টাকা বার্ধক্য ভাতা পাবেন । এই প্রকল্পের ফলে প্রায় 4 লাখ মানুষ উপকৃত হবেন । এই খাতে সরকার আগামী আর্থিক বছরের জন্য 500 কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে ।

বেকারত্বের হার কমাতে "বাংলাশ্রী" ও "কর্মসাথী"
রাজ্যে বেকারত্বের হার কমাতে নতুন ঘোষণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার । সারা দেশে বেকারত্ব কমাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে । গত আর্থিক বছরে রাজ্যে 40 শতাংশ বেকারত্ব কমেছে বলে দাবি রাজ্য সরকারের । সামলে 2021 বিধানসভা ভোট । তার আগে সরকারের পেশ করা শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেটে বেকারত্ব কমাতে বাংলাশ্রী ও কর্মসাথী প্রকল্প ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী । তিনি বেকার যুবক-যুবতির জন্য "কর্মসাথী" প্রকল্পে আগামী তিন বছরে প্রত্যেক বছরে 1 লাখ করে বেকারদের কর্মসংস্থান হবে বলে জানান । এই প্রকল্পে বেকার যুবক-যুবতিরা সহজ শর্তে 2 লাখ টাকা করে ঋণ পাবে । এই টাকায় ছোটো ব্যবসা বা শিল্প শুরু করতে পারবেন ।
অন্যদিকে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পে জোর দেওয়ার জন্য 1 এপ্রিল থেকে "বাংলাশ্রী" নামে নতুন প্রকল্প চালু করার কথা ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী । এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্য নতুন ক্ষুদ্র শিল্প গঠনে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে । বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য 100 কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ।
এছাড়া রাজ্যে 40টির মতো বাসস্ট্যান্ড ও ডিপোর পরিকাঠামোগত আধুনিকীকরণ করা হবে । বাসস্ট্যান্ড গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সাঁতরাগাছি, যাদবপুর, 8বি বাসস্ট্যান্ড, মালবাজার, বিষ্ণুপুর, করুণাময়ী ইত্যাদি ।
জলধারা প্রকল্পে168টির মধ্যে 108টি যান্ত্রিক ভাবে চালিত বোট তৈরি করা হবে ।
আন্তঃরাজ্য জলপথ প্রকল্পের উন্নয়নে 1032 কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ।
সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফকর্মসুচিতে 40.31 কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে ।
রাজ্যে আরও 5টি IT পার্ক গড়ে তোলা হবে।
আগামী আর্থিক বছরে পর্যটনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে । ফরাসি সরকারের সাহায্যে হুগলি জেলার স্ট্যান্ড রোডে অতীতের ফরাসি রেজিস্ট্রি বিল্ডিং ও অন্যান্য সৌধগুলির পুনর্গঠন ও নব রূপায়ণ করে রক্ষণাবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । পর্যটনের জন্য আগামী অর্থবর্ষে 400 কোটি টাকা ব্যয় করা হবে ।
তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে 3 হাজার কোটি টাকা বিনিযোগ হবে বলে এই বাজেটে আশা করা হয়েছে ।
ক্ষুদ্র,ছোটো ও মাঝারি ও বস্ত্র শিল্পের জন্য মোট 880 কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ।
এছাড়া কানপুর ও চেন্নাই থেকে আসা ট্যানারিগুলো সহ মোট 187 ট্যানারিকে জমি দেওয়া হবে ।
খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালনের উপর এবারের বাজেটে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে । জলপাইগুড়ি জেলায় মোহিত নগরে 6 লাখ বিভিন্ন ধরনের ফল ও বাগিচা ফসলের চাষ শুরু হবে ।
রাজ্যে ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে নদিয়া জেলার কল্যাণীতে 31 কোটি টাকা ব্যয়ের 3 লাখ লোয়ার বিশিষ্ট কর্মাশিয়াল ফার্ম তৈরি হবে । এরফলে বছরে 9.10 কোটি ডিম উৎপাদন হবে । এছাড়া জল সম্পদ কারিগরি ও পানীয় জল (PHE) প্রকল্পের জন্য মোট 5011.90 কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ।
বাংলাশ্রী, হাসির আলো, কর্মসাথী সহ মোট 11 টি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করলেন রাজ‍্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। বাজেট পেশ করতে গিয়ে তিনি দাবি করলেন, বেকার কমেছে 40 শতাংশ। মোট বাজেট বরাদ্দ 255677 কোটি টাকা । কর্মসংস্থান হয়েছে 9 লাখ 11 হাজার ।

Last Updated : Feb 10, 2020, 11:47 PM IST

ABOUT THE AUTHOR

...view details