কলকাতা, 26 ফেব্রুয়ারি: চা-বাগানের অব্যবহৃত জমির 30 শতাংশ শিল্পপতিদের দিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । যার তীব্র বিরোধিতা করলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ বিজেপির রাজু বিস্তা । এই নিয়ে রাজ্যের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারিও ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি ৷
বুধবার রাজভবনে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করেন রাজু বিস্তা ৷ রাজ্যপালের কাছে এই বিষয়ে স্মারকলিপি জমা দেন তিনি ৷ পরে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ একাধিক দফতরে চিঠি পাঠিয়েছেন ৷ শুধু তাই নয়, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে বৃহত্তম আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন এই বিজেপি সাংসদ ।
রাজুর কথায়, "নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুরের 1000 একর জমি ছিল । এখানে 1 লক্ষ একরের বেশি জমি । ফলে, দার্জিলিং এবং চা-বাগান এলাকার মানুষদের বিরুদ্ধে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে তার যে পরিমাণ ঘটবে, তার জন্য তিনিই দায়ী থাকবেন ।" কার্যত, চা-বাগানের জমি শিল্পের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্যকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি ।
এদিন রাজ্যপালের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন রাজু বিস্তা ৷ বাইরে এসে তিনি বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময় উত্তরবঙ্গতে সমস্যা হচ্ছে । চা-বাগানের জমি পুঁজিপতিদের দেওয়া হচ্ছে । 1 লক্ষ একরের বেশি জমি উদ্যোগপতিদের দেওয়া হচ্ছে । সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের থেকেও বেশি জমি দেওয়া হচ্ছে । 1955 থেকে আজ পর্যন্ত চা-বাগান এলাকার অব্যবহৃত জমি ফিরে পাওয়া যায়নি ।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘কোনও চা-বাগানের জমি চায়ের কাজ বাদে অন্য কারণে যদি ব্যবহার করা হয়, তাহলে তার জন্য টি-বোর্ডের অনুমোদন লাগে । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, চা-বাগানের খালি জমি নাকি দেওয়া হবে । কিন্তু, যে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে, সেটা উল্টো বলছে । আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে খালি জমির কথা বলছেন, সেটা আদতে সঠিক নয় । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোর করে এই আইন করলে, পরিণাম খারাপ হবে ।’’

এই নিয়ে রাজু বিস্তার আরও বক্তব্য, ‘‘নন্দীগ্রামের চেয়ে বেশি জমি । উদ্যোগপতিরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় বিশ্বাস করবেন না । এই বিষয়ে আজ রাজ্যপালকে বললাম । তিনি আইনি দিক এবং সাংবিধানিক বিষয়ে প্রতিরোধে রেখে যথাযথ পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন ।"
রাজু বিস্তার আরও দাবি, "দার্জিলিং সিকিমের অংশ ছিল । ইংরেজরা সিকিম থেকে লিজ নেয় । স্বাধীনতার পর এটা বঙ্গের অংশ হল । তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও অধিকার নেই ।"