বসিরহাট, 12 নভেম্বর: বেলঘরিয়া, বনগাঁর পর এবার শুটআউট বসিরহাটে ! রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে এক ব্যক্তিকে গুলি করে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল ৷ ঘটনার পর গা ঢাকা দিয়েছে আততায়ীরা ৷ তাদের হদিশ পেতে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ ৷ এই ঘটনা শোরগোল পড়ে গিয়েছে উত্তর 24 পরগনার সীমান্ত শহর বসিরহাটে ৷
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম আনন্দ সরকার ৷ বয়স 45 বছর ৷ বাড়ি বসিরহাটের সীমান্ত লাগোয়া নাকুয়াদহ গ্রামে ৷ পুরনো কোনও শত্রুতা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে; তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ৷ পরিবার সূত্রে খবর, সোমবার রাত 10টা নাগাদ ওই ব্যক্তিকে ডাকতে কয়েকজন তার বাড়িতে যায় । এরপর আনন্দকে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি মাঠের পাশে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ অভিযোগ, সেখানেই তাকে প্রথমে গুলি করা হয়, পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা ৷
একসময় আনন্দ ঘোজাডাঙা সীমান্তে আমদানি-রফতানির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল ৷ পরবর্তীতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ ৷ সেই অপরাধে কয়েক বছর আগে পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছিল আনন্দ সরকার ৷ কিছু দিন জেল খাটার পর জামিনে ছাড়া পেয়ে ফের ঘোজাডাঙা সীমান্তে আমদানি-রফতানির ব্যবসার সঙ্গে ফের যুক্ত হয় ৷ এসবের মধ্যেই সোমবার রাতে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গুলি করার পর নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে আততায়ীদের বিরুদ্ধে।
গুলির শব্দ শুনে গ্রামবাসীরা ছুটে এসে দেখেন মাঠের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন ওই ব্যাক্তি। খবর দেওয়া হয় বসিরহাট থানায় ৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ গুলিবিদ্ধ ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে বসিরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায় ৷ যদিও, সেখানেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা ৷ হাসপাতাল সূত্রে খবর, মঙ্গলবার মৃত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত হবে। তারপর তার দেহ তুলে দেওয়া হবে পরিবারের হাতে ৷
অন্যদিকে, ঘটনার তদন্তে নেমে এদিন রাতেই পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। নিহত ব্যাক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও আলাদাভাবে এদিন কথা বলেছেন তদন্তকারী অফিসার। শুধু তাই নয়, দুষ্কৃতীরা যাতে সীমান্ত পেরিয়ে কোনওভাবেই বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে না পারে, সেদিকেও নজর রয়েছে পুলিশের।