নন্দীগ্রাম (পূর্ব মেদিনীপুর), 6 এপ্রিল: বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর থেকে আদালতের ভরসা চলে গিয়েছে ৷ বৃহস্পতিবার এমনই দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ৷ বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে এসে তিনি এই মন্তব্য করলেন ৷ এদিন নন্দীগ্রাম টাউন ক্লাবের মাঠে হনুমান জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে এসেছিলেন বিরোধী দলনেতা ৷ সেখানেই তিনি এই মন্তব্য করেন ৷
প্রসঙ্গত, রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার হাওড়ায় অশান্তি হয় ৷ তার পর আবার রবি ও সোমবার অশান্ত হয়ে ওঠে হুগলির রিষড়া ৷ এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শুভেন্দু ৷ অশান্ত এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের আর্জি জানিয়েছিলেন ৷ কলকাতা হাইকোর্ট বুধবার সেই মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারকে ওই সব এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি ভেবে দেখার পরামর্শ দেয় ৷
তবে হনুমান জয়ন্তীতে রাজ্য পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয় হাইকোর্টের তরফে ৷ সেই নির্দেশ মেনে এদিন বেশ কিছু জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনও করা হয় ৷ সেই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই শুভেন্দু জানান, আদালত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পুলিশের উপর ভরসা করতে পারছে না ৷ সেই কারণেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে ৷ তবে তার পরও কেন্দ্রীয় বাহিনী সঠিক ভাবে মোতায়েন করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন ৷
এদিকে রামনবমীতে হওয়া হিংসা প্রসঙ্গে শুভেন্দুর বক্তব্য, রাজ্যজুড়ে হাজার খানেক মিছিল হয়েছে ৷ দু’তিনটে জায়গায় গোলমাল হয়েছে ৷ সব সংখ্যালঘুরা খারাপ নন ৷ গোলমাল পাকিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারাই ৷ সাগরদিঘিতে হারের জেরেই এই ঘটনা ৷ তিনি দু’জন তৃণমূল নেতার নামও উল্লেখ করেছেন ৷ তাঁর দাবি, হাওড়া ও রিষড়ার এই দুই শাসক নেতাই পুরো গোলমালের নেপথ্যে রয়েছেন ৷
একই সঙ্গে তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতি করার অভিযোগ করেছেন ৷ মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ তোলেন ৷ জানান, বিজেপি বাংলায় এই পরিবারতন্ত্র শেষ করবে ৷ এছাড়াও একাধিক ইস্যুতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন ৷