নবদ্বীপ, 20 জুলাই: অতিমারিতে জীবনটা আমূল বদলে গিয়েছে পলাশ দেবনাথের ৷ ক্লাস সেভেনের ছাত্র ৷ করোনার প্রথম ঢেউ আছড়ে পড়ার পরই দীর্ঘদিনের লকডাউনে বাবার কাজ গিয়েছে ৷ এখন তিনি টোটো চালান ৷ আর বাবার সঙ্গে সংসার চালানোর গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে ছোট্ট ছেলেটিকে ৷ স্কুল এখন বন্ধ ৷ তাই স্কুলের সময়টায় সাইকেল চড়ে ঠান্ডা পানীয় বিক্রি করতে হচ্ছে পলাশকে ৷
বয়স 12 কি 13 ৷ বড় জোর 14 ৷ রিকশা চালাতে শিখে নিয়েছে সে সদ্য ৷ গানওয়ালার এই গানের কলি মনে করিয়ে দেবে ক্লাস সেভেনের পলাশ দেবনাথ ৷ তবে এ ছেলে রিকশা নয়, সাইকেল চালিয়ে দিনভর ঘুরে বেড়াচ্ছে নবদ্বীপ শহরের আনাচে-কানাচে ৷ সাইকেলের পেছনে বাঁধা একটি থার্মোকলের পেটি ৷ তাতে ঠান্ডা পানীয়, জলের বোতল নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করা ৷ পড়াশোনা, খেলাধুলোর রুটিন ভুলে এটাই এখন তার বেঁচে থাকার চাবিকাঠি ৷
কোলের ডাঙা অঞ্চলের বাসিন্দা পলাশের বাবার নাম অজয় দেবনাথ । আগে তিনি নবদ্বীপের স্বরূপগঞ্জে থাকতেন ৷ সেখানেই মিষ্টির দোকানে কাজ করতেন ৷ করোনা বিধির ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল দোকান ৷ রোজগারের পথ বন্ধ হওয়ায় তিনি সপরিবার ফিরে যান কোলের ডাঙায় । এখন বাবার টোটো চালানো আর ছেলের পানীয় বিক্রির টাকাতেই চলছে সংসার ৷
পলাশের কথায়, "ক্লাস সেভেনে পরি ৷ এখন স্কুল বন্ধ ৷ তাই রোজ সাইকেল নিয়ে নবদ্বীপের নানা জায়গায় যাই, পানীয় বিক্রি করতে । প্রতিদিন প্রায় 25 বোতল বিক্রি করি ৷ রথের দিন একটু বেশি বিক্রি হয়েছে ৷ জল ও বিস্কুট খেয়ে সকাল 7টায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ি ৷ ফিরতে ফিরতে বিকেল চারটে বেজে যায় ৷ মাঝে কোথাও দাঁড়িয়ে দোকান থেকে রুটি-পরোটা কিছু খেয়ে নিই ।" দস্যি দামাল হওয়ার বয়সে এটাই এখন রোজনামচা তরতাজা কিশোরের ৷ করোনা মানুষের জীবনে কীভাবে অভিশাপের মতো নেমে এসেছে, তারই জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ পলাশ দেবনাথ ৷