কলকাতা, 19 এপ্রিল: বাঁশদ্রোণী থানা এলাকার ব্রহ্মপুরে সিন্ডিকেট দৌরাত্ম্যের ঘটনায় গুলি চলার ছবি সামনে আসার পরই এই ঘটনায় অন্যতম দুই অভিযুক্তের নাম সামনে এসেছে (Shootout due to Syndicate Clash at Bansdroni)। প্রথম নাম মলয় দত্ত ওরফে কানা মলয় এবং অপরজন বিশ্বনাথ সিং। কিন্তু কে এই মলয় দত্ত এবং বিশ্বনাথ সিং? কীভাবেই বা তাদের উত্থান হল?
ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখার আধিকারিকরা এই দুই ব্যক্তি সম্পর্কে এলাকার বাসিন্দাদের থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন । পুলিশ সূত্রের খবর, বর্তমানে চিকিৎসাধীন বিশ্বনাথ সিং এবং মলয় দত্ত বেশ কয়েকবছর আগে থেকেই সোনারপুর, রাজপুর, ব্রহ্মপুর, রিজেন্ট পার্ক এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ শুরু করেছিলেন ।
আরও পড়ুন : লেক গার্ডেন্সে সিন্ডিকেটের মারামারির ঘটনায় প্রকাশ্যে সিসিটিভি ফুটেজ, গ্রেফতার 11
লালবাজার গুন্ডা দমন শাখা সূত্রের খবর, ওই এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ এঁদের হাত ধরেই শুরু হয় ৷ অভিযোগ টাকা-পয়সাকে কেন্দ্র করে মাঝে তাঁদের মধ্যে ঝামেলার সৃষ্টি হত । ফলে ধীরে ধীরে আলাদা হতে থাকে বিশ্বনাথ এবং মলয় । পুলিশ সূত্রের খবর, সোনারপুর, রাজপুর, ব্রহ্মপুর-সহ একাধিক জায়গায় ইদানিং কয়েক বছর ধরে যে সব বহুতল গড়ে উঠেছিল, সেই সব বহুতলের ইমারতের দায়িত্ব পাচ্ছিলেন গুলিবিদ্ধ এই মলয় দত্ত ।
আরও পড়ুন : আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে বগটুই-কাণ্ডের মূল পান্ডা বললেন মিহিলাল, দলের একাংশের চক্রান্ত বলে অভিযোগ বিধায়কের
এরপরই ধীরে ধীরে একাধিক রিয়েল এস্টেটের ব্যবসায় পা রাখতে শুরু করেন মলয় । অন্যদিকে, সেই সিন্ডিকেট ব্যবসাতেই পড়ে থাকতে হয় বিশ্বনাথকে । অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যে সব ইমারত ব্যবসা হচ্ছিল, সেই সব ব্যবসার সিংহভাগ কাজের বরাত পাচ্ছিলেন মলয় । আর এই বরাত পাওয়াকে কেন্দ্র করেই বেশ কিছুদিন ধরে মলয় ও বিশ্বনাথের মধ্যে চলছিল ঠান্ডা লড়াই ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এদিন সকাল এগারোটা নাগাদ ব্রহ্মপুরে নিজের অফিসে বসেছিলেন মলয় দত্ত । সঙ্গে ছিলেন তাঁর অনুগামীরাও । সেই সময় বিশ্বনাথ সিং এবং তাঁর অনুগামীরা আচমকাই মলয়ের অফিসে চড়াও হন। অভিযোগ, কেন মলয় তার সঙ্গে সিন্ডিকেটে কাজ করছে না, গোটা এলাকার সিন্ডিকেটের কাজ কেন মলয়ের হাতে থাকছে, তা জানতে চান বিশ্বনাথ। লালবাজার সূত্রের খবর, এরপরেই একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে । দু'জনেই গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ।
পাশাপাশি এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গোটা এলাকায় ধরপাকড় চালিয়ে কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখার গোয়েন্দারা 9 জনকে আটক করেছে। তাঁদের স্থানীয় থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা ।