জলপাইগুড়ি, 9 ফেব্রুয়ারি: সরকারি হোমের 'নাবালক' আবাসিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল আদালত ৷ বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয় ৷ পাশাপাশি 48 ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শুরু করতে হবে বলেও জানিয়েছে আদালত ৷ ফের ময়নাতদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ । আগামী 13 মার্চের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে ৷
জলপাইগুড়ির সরকারি কোরক হোমে বিচারাধীন আবাসিক ছিল লাবু ইসলাম (17) ৷ কোচবিহারের এনডিপিএস (Narcotic Drugs and Psychotropic Substance) মামলায় তার বিচার প্রক্রিয়া চলছিল ৷ গত 15 ডিসেম্বর তার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় ৷ পুলিশ রিপোর্টে জানায়, লাবু ইসলাম আত্মহত্যা করেছে ৷ এ নিয়ে মৃতের পরিবার সন্দেহ প্রকাশ করে ৷ এছাড়া আদালতে পুলিশের পেশ করা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয় লাবু ইসলামের বয়স 34 বছর ৷ এই রিপোর্ট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন লাবুর আইনজীবী সুমন শেহানবিশ ৷ কারণ সাবালক অপরাধী কখনও হোমে থাকবে না ৷ তাহলে তার মক্কেল লাবু ইসলাম, যার বয়স 17 এবং পুলিশের পেশ করা ময়নাতদন্তে যে লাবু ইসলামের কথা জানানো হয়েছে- দু'জন একই কি না, তা খতিয়ে দেখার আবেদন করেন আইনজীবী ৷
আরও পড়ুন: সরকারি হোম থেকে পালাতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ল 2 কিশোর
তাছাড়া নাবালক বা নাবালিকা অভিযুক্ত থেকে শুরু করে অপরাধীদের হোমে রেখে সংশোধনের চেষ্টা করা হয় ৷ সেখানে লাবু ইসলাম সরকারি কোরক হোমে কী করে আত্মহত্যা করল ? এই বিষয়টিও আদালতের নজরে আসে ৷ স্বভাবত, ট্রায়াল চলাকালীন অভিযুক্ত নাবালক আবাসিকের মৃত্যু নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে ৷ জলপাইগুড়ির জেলাশাসক, হোমসুপার, কোতয়ালির আইসি-সহ কোচবিহারের এনডিপিএস আদালতের বিচারকের কাছে রিপোর্ট তলব করে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি সিদ্ধান্ত রায়চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ ৷ কারও কোন গাফিলতি ছিল কি না ? যদি 17 বছরের কিশোর লাবু ইসলাম আত্মহত্যাই করে থাকে, তাহলে বিচারাধীন অবস্থায় সে কেন আত্মহত্যা করল ? সে সবকিছু তদন্তের নির্দেশ দেয় বেঞ্চ ৷
বুধবার জলপাইগুড়ি সরকারি কোরক হোমের আবাসিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে অসঙ্গতির কথা আদালতের সামনে তুলে ধরেন আইনজীবীরা ৷ কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের কাছে পুলিশের পেশ করা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে লাবু ইসলামের বয়স 34 জানানো হয়েছে বলে জানান জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের সরকারি কৌঁসুলী অদিতি শঙ্কর চক্রবর্তী ৷ এরপর জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের ডিভিশন বেঞ্চ লাবু ইসলামের মৃতদেহ কবর থেকে তুলে ফের ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন ৷ তদন্তের সার্থে দ্বিতীয় বার লাবুর মৃতদেহ তুলে ফের ময়নাতদন্তের জন্য লাবু ইসলামের মায়ের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে ।
আরও পড়ুন: কার অধিকার বেশি, দুই মায়ের টানাপোড়েনে বালিকার ঠাঁই সরকারি হোমে