পটনা, 26 সেপ্টেম্বর: 2024 লোকসভা ভোটের আগে সামনেই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন ৷ ফলে দেশজুড়েই বর্তমানে চর্চায় রয়েছে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যু ৷ যার মধ্যে রয়েছে, মহিলা সংরক্ষণ বিল, 'এক দেশ এক নির্বাচন'য়ের মতো বিষয়গুলি ৷ এই সমস্ত বিষয় নিয়ে ইটিভি ভারতের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হলেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের তরফে বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক মঙ্গল পাণ্ডে ৷
বিজেপি বিরোধী দলগুলি সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাসে তাদের সম্মতি দিলেও, ওই বিলের মাধ্যমে ওবিসি শ্রেণির মহিলাদেরও সংরক্ষণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ৷ বিষয়টি নিয়ে সংসদের ভিতরে ও বাইরে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি ৷ এই প্রসঙ্গে মঙ্গল পাণ্ডে জানিয়েছেন, সংসদের মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হওয়ায়, দেশের মহিলারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন ৷ মহিলাদের যে সম্মান প্রাপ্য, দেশ স্বাধীন হওয়ার 76 বছর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই সম্মান তাঁদের দিয়েছেন ৷
এই বিজেপি নেতার কথায়, "কংগ্রেস যখন ক্ষমতায় ছিল তারা মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের কথা বললেও, তা চালু করার বিষয়ে যথাযথভাবে চেষ্টা করেনি ৷ এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে যখন এই বিল পাস হয়েছে তখন বিরোধীদের পেট ব্যথা হচ্ছে ৷" তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশের মহিলাদের সম্মান ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন ৷ বিরোধীরা রাজনৈতিক কারণেই এর সমালোচনা করছেন, কিন্তু দেশের মহিলারা এই বিল পাস হওয়ায় খুশি ৷ এর ফলে লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলারাও পুরুষদের সমান সুযোগ পাবেন ৷ উন্নয়নমূলক বিভিন্ন নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রেও মহিলাদের মতামত গুরুত্ব পাবে ৷
আরও পড়ুন: দুর্নীতি রোধে প্রযুক্তির ব্যবহার কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছে, বললেন প্রধানমন্ত্রী
বাম নেত্রী সুভাষিনী আলি অভিযোগ করেছেন, এই সরকারের উদ্দেশ্য মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়া নয়, বরং ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণেই এই বিল পাস হলেও কবে থেকে তা লাগু হবে তা জানায়নি মোদি সরকার ৷ এই প্রসঙ্গে মঙ্গল পাণ্ডের পালটা জবাব, কেন্দ্রে যখন মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বে কংগ্রেসের সরকার ছিল সেই সরকারের অংশ ছিল কমিউনিস্ট পার্টিও ৷ তখন কী ভাবে এই বিল আনা হয়েছেল তা সকলেই জানেন ৷ যা ওই সরকার পারে নি তা মোদি সরকার পেরেছে, তাই বিরোধীদের এখন পেট ব্যথা হচ্ছে ৷
এক দেশ এক নির্বাচন প্রসঙ্গে এই বিজেপি নেতার মত, বর্তমান পরিস্থিতিতে উন্নয়ন সবথেকে আগে প্রয়োজন ৷ কিন্তু দেখা যায় পুরো 5 বছর ধরে রাজ্যগুলিতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভোট চলায় উন্নয়নের কাজ থমকে যায় ৷ লোকসভার ভোট হয়, বিধানসভা ভোট হয়, স্থানীয় নির্বাচনগুলি হয় ফলে সেই সময় আদর্শ আচরণ বিধি লাগু হয়, আর তার ফলে উন্নয়নের কাজ থমকে যায় ৷ 12-15 মাস পর্যন্ত কোনও কোনও রাজ্যে এই আদর্শ আচরণ বিধির জন্য উন্নয়নের কাজ থমকে যায় ৷ তাই একসঙ্গে ভোটগুলি হলে এই কাজ বাধাপ্রাপ্ত হওয়া কমবে ৷ বিজেপি নেতা মঙ্গল পাণ্ডের মতে সব ভোট একসঙ্গে হলে নির্বাচনী খরচও বাঁচবে ও সেই অর্থ আরও বেশি করে উন্নয়নের কাজে লাগানো যাবে ৷