কলকাতা, 27 ফেব্রুয়ারি:দিনহাটার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের উপর হামলার ঘটনায় প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ। পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী সৌম্য মজুমদার। এই ঘটনায় জনসাধারণের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপর যদি হামলা হতে পারে তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? সোমবার প্রধান বিচারপতি এই মামলার অনুমতি দিয়েছেন (Calcutta HC over Attack on Nisith Pramanik)।
হাইকোর্টে এই মামলা দায়ের করেছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ৷ এছাড়াও আবেদন দিনহাটা এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার আবেদন। শীঘ্রই শুনানির সম্ভাবনা। শনিবার সকালে দিনহাটার বুড়িরহাট এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বিজেপি কর্মীদের বাড়ি, ঘর পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা। সেই সময় বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে বচসার সৃষ্টি হয়। তৃণমূল সমর্থকরা তাঁকে দেখে কালো পতাকা দেখালে বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে হাতাহাতি শুরু হয়। তাঁর গাড়ি লক্ষ করে ইট ছুড়ে কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয় ৷ পুলিশ ওইদিনই 18 জনকে গ্রেফতার করে।
তা সত্ত্বেও আইনজীবীদের দাবি, একজন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর উপর যেভাবে হামলা করা হয়েছে তাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় সেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এই ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা । বিজেপি আগেই রাজনৈতিকভাবে এই মোকাবিলা করছিল। এবার আদালতের দ্বারস্থ বিরোধী দলনেতা। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথের কনভয়ে হামলা প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, "স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জেড ক্যাটেগরি নিরাপত্তা পাওয়া সত্ত্বেও তাঁর নিরাপত্তা নেই। এবিষয়ে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইমেল মারফত জানানো হয়েছে ৷ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হোক ওখানে। রাতে বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, লুট করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:নিশীথ প্রামাণিকের কনভয়ে হামলার প্রতিবাদে বিজেপির থানা ঘেরাও
বিজেপির অভিযোগ, নিশীথের কনভয়ে হামলা আসলে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহের চক্রান্ত। অন্যদিকে, পুরো ঘটনার দায় নিশীথের ঘাড়েই চাপিয়েছেন উদয়ন। দিনহাটার তৃণমূল বিধায়কের দাবি, "সমাজবিরোধীদের দিয়ে নিশীথ এলাকা দখল করতে চেয়েছিলেন। আর তার জেরেই এই অশান্তির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।" ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও। শনিবার সন্ধ্যার হামলার ঘটনাকে 'শোচনীয়' আখ্যা দিয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপাল। এবার সেই কাণ্ড গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে।