কলকাতা, 21 নভেম্বর : ED-র একটি দল আজ সকালে অভিযান চালায় দক্ষিণ কলকাতার সাউথ সিটি আবাসনে । সেখানে থাকেন রোজভ্যালি কর্ণধার গৌতম কুন্ডুর স্ত্রী শুভ্রা কুন্ডু । শুভ্রা কুণ্ডুর স্ত্রীর ফ্ল্যাটের পাশাপাশি আরও পাঁচটি জায়গায় ED অভিযান চালায় বলে সূত্রের খবর ।
আজ সকালে ED-র 25 জনের একটি দল ৬ ভাগে ভাগ হয়ে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় হানা দেয় । একটি দল যায় নিউটাউনে । সেখানে থাকেন রোজভ্যালির এক উচ্চপদস্থ কর্মচারী রুপল কবিরাজ । তাঁর বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে ED-র কাছে । তাঁকে জেরা করেই সংস্থার হিসেব সংক্রান্ত তদন্তের জট খুলতে চাইছেন গোয়েন্দারা ।
এদিকে সাউথ সিটিতে তাঁর ফ্ল্যাটে শুভ্রা কুন্ডুর দেখা পাওয়া যায়নি বলে ED সূত্রে খবর । ED-র আধিকারিকরা সেই ফ্ল্যাটে গিয়ে শুভ্রার পরিচারিকার দেখা পান ৷ তিনি জানান, শুভ্রা না কি সপ্তাহ খানেক আগে বাইরে গেছেন । এই মুহূর্তে কলকাতায় নেই । কিন্তু কোথায় গেছেন তিনি ? সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনও তথ্য পাননি ED-র আধিকারিকরা ।
শুভ্রা রোজ ভ্যালির স্বর্ণবিপণি সংস্থা অদ্রিজার অন্যতম ডিরেক্টর ছিলেন । সেখানে একাধিক বার তল্লাশি চালিয়েছে CBI এবং ED । সেখানে উদ্ধার করা হয় প্রচুর নথি । সেই নথি ঘেঁটে দেখা গেছে এই সংস্থা বাজার থেকে ৩৩০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল । রোজভ্যালি ওই টাকা অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলেছে বলে ED-র ধারণা ।
তদন্ত চলাকালীন অদ্রিজা থেকে প্রচুর ভাউচার বাজেয়াপ্ত করে ED । তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, সেই ভাউচার পরীক্ষা করে দেখা গেছে শুভ্রা প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতন পেতেন । তিনি মূলত সংস্থার আর্থিক বিষয়টি দেখতেন । তবে পরে অদ্রিজা থেকে পদত্যাগ করেন শুভ্রা । এই সংস্থার সঙ্গেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারীরা । জানা গেছে, শুভ্রা ডিরেক্টর থাকাকালীন অদ্রিজা থেকে অনেক প্রভাবশালীকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল সোনা এবং হীরার গয়না । সেই সব কিছুরই হিসেবে পেতে চাইছে ED । এর আগেও শুভ্রাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা । কিন্তু তাঁকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে মনে করছে ED । তাই তাকে তলব করা হয়েছে । এই বিষয়ে শুভ্রা কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ED নানা জায়গায় রোজভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুণ্ডুর তরফে দেওয়া অগ্রিম টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে । জানা গেছে, সম্পত্তি কেনার জন্য গৌতম এ রাজ্য সহ ভিন রাজ্যে বেশ কিছু ব্যক্তি ও সংস্থাকে অগ্রিম টাকা দিয়েছিলেন । তালিকায় দিল্লির একটি হোটেলও রয়েছে বলে ED সূত্রে খবর । ওই সব সম্পত্তি কেনার অগ্রিম টাকা অবিলম্বে ফেরত চায় ED । টাকা ফেরত পাওয়া না গেলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে বলে জানা গেছে ।