ETV Bharat / state

কর আদায়ে কর্পোরেশনের নয়া নিয়ম, ফ্ল্যাট কিনলে দিতে হবে না বকেয়া - KMC PROPERTY TAX

ফ্ল্যাট বিক্রি করে দ্রুত ক্রেতার নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে বকেয়া করের দায় তাঁদের ঘাড়ে চাপানোর দিন শেষ অসাধু প্রোমোটারদের। নয়া নির্দেশনা কলকতা কর্পোরেশনের ৷

KMC
কলকাতা কর্পোরেশন (নিজস্ব)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : Feb 27, 2025, 12:44 PM IST

কলকাতা, 27 ফেব্রুয়ারি: বিপুল টাকা ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কেনার পর মাথায় হাত পরে ফ্ল্যাট ক্রেতাদের। কারণ নতুন ফ্ল্যাটের মিউটেশন করতে গিয়ে দেখেন বিপুল টাকা বকেয়া কর। সেই করের টাকা না-মেটালে হবে না মিউটেশন। আর ফ্ল্যাট বিক্রি করে দ্রুত ক্রেতার নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে সেই বকেয়া করের দায় চুপিসারে ক্রেতাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন কিছু অসাধু প্রোমোটার। এবার সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন ফ্ল্যাটের ক্রেতার। কারণ কর নিয়ে নতুন নিময় আনছে কলকাতা কর্পোরেশন ৷

পুর কমিশনার ধবল জৈন সম্প্রতি জারি করেছেন নয়া নির্দেশিকা। তাতে সাফ বলা হয়েছে আগে মেটাতে হবে বকেয়া কর ৷ তারপর নির্মাণ কাজ। সম্পত্তি কর বকেয়া রাখলে বন্ধ করা হবে নির্মাণ কাজ ৷ নো আউটস্ট্যান্ডিং সার্টিফিকেট(এনওসি) নিতে হবে নির্মাণকারীকে। তেমনটা না-হলে নির্মাণ কাজে 'স্টপ অফ ওয়ার্ক' নোটিশ ঝোলানো হবে। নয়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট ফ্ল্যাট বিক্রি অনেক পরের কথা, নির্মাণ কাজের আগেই মেটাতে হবে বকেয়া সম্পত্তি কর।

এই প্রসঙ্গে কলকাতা কর্পোরেশনের আধিকারিক জানান, সাধারণ মানুষ বহু কষ্টে অনেক টাকা ধারদেনা করে ফ্ল্যাট কেনেন। কিন্তু তার আগে বকেয়ার বিষয়ই খোঁজ নেন না। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফ্ল্যাট বিক্রেতারা ফাঁদে ফেলে বকেয়া করের দায় ক্রেতাদের উপর চাপিয়ে দেন। ফলে ধারদেনার করে নতুন ফ্ল্যাট কেনার পর তাঁদের বকেয়া করের দায় চাপে। সেই অবাঞ্ছিত দায় থেকে সুরাহা দিতেই এই নির্দেশিকা।

KMC TAX NOTIFICATION
কর আদায়ে কর্পোরেশনের নয়া নিয়ম (নিজস্ব চিত্র)

সম্প্রতি যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, বিল্ডিং প্ল্যানের চূড়ান্ত অনুমোদন ও কমপ্লিশন সার্টিফিকেট পেতে হলে বাধ্যতামূলক ভাবেই নো আউটস্ট্যান্ডিং সার্টিফিকেট দরকার। বহু ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন পাওয়ার পর ডেভলপার বা জমি অথবা বাড়ির মালিক বকেয়া কর প্রদান থেকে বিরত থাকেন। যেহেতু এই ক্ষেত্রে সিসি পাওয়ার আগেই ফ্ল্যাট বিক্রি করে হস্তান্তর করে দেন ক্রেতাদের, তাই সেই বকেয় করের দায় মাথায় চাপে ক্রেতাদের।

তাই এখন থেকে, জমি বাড়ির মালিক ও নির্মাণকারীকে একটি আন্ডার টেকিং বা প্রতিশ্রুতি পত্র জমা দিতে হবে, যেখানে লেখা থাকবে বকেয়া সব করের টাকা পরিশোধ করার ক্ষেত্রে তারা দায়বদ্ধ। নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তা জমা দিতে হবে।

মালিক বা নির্মাণকারী অঙ্গীকার করবেন, কর চার কোয়ার্টার বকেয়া হলেই কর্পোরেশন কাজ বন্ধের নোটিশ দেবে। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তারা কেউ কোনও পদক্ষেপ নিতে পারবে না। অর্থাৎ বিষয়ই আদালতে অভিযোগের জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন না। ফ্ল্যাট ক্রেতাদের চুক্তিতে উল্লেখ থাকবে, তাঁরা যে ফ্ল্যাট কিনছে, সেই জমি বা ফ্ল্যাটের কোনও ধরনের কর বকেয়া নেই। ক্রেতারাও বিষয়টি যাচাই করে নেবেন। কারণ নয়া নিয়মে নির্মাণকারী হোক বা যেই হোক যে বহুতল নির্মাণ করবে বা মালিক তাকেই মেটাতে হবে বকেয়া।

এই নির্দেশ মত সম্পত্তি কর মূল্যায়ন ও বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকরা ওয়ার্ড ভিত্তিক বা রাস্তা ভিত্তিক রিপোর্ট তৈরি করবেন। সেই অনুসারে নজরদারি চালিয়ে ব্যবস্থা নেবেন। নির্মাণ কাজ শুরুর এক বছরের মাথায় বকেয়া নিয়ে কর্পোরেশনের তরফে বার্তা পাঠানো হবে। নিয়ম করে স্টপ ওয়ার্ক নোটিশ দিতে হবে ও ত্রৈমাসিক রিপোর্ট পুর কমিশনারকে পাঠাবেন।

কলকাতা, 27 ফেব্রুয়ারি: বিপুল টাকা ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কেনার পর মাথায় হাত পরে ফ্ল্যাট ক্রেতাদের। কারণ নতুন ফ্ল্যাটের মিউটেশন করতে গিয়ে দেখেন বিপুল টাকা বকেয়া কর। সেই করের টাকা না-মেটালে হবে না মিউটেশন। আর ফ্ল্যাট বিক্রি করে দ্রুত ক্রেতার নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে সেই বকেয়া করের দায় চুপিসারে ক্রেতাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন কিছু অসাধু প্রোমোটার। এবার সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন ফ্ল্যাটের ক্রেতার। কারণ কর নিয়ে নতুন নিময় আনছে কলকাতা কর্পোরেশন ৷

পুর কমিশনার ধবল জৈন সম্প্রতি জারি করেছেন নয়া নির্দেশিকা। তাতে সাফ বলা হয়েছে আগে মেটাতে হবে বকেয়া কর ৷ তারপর নির্মাণ কাজ। সম্পত্তি কর বকেয়া রাখলে বন্ধ করা হবে নির্মাণ কাজ ৷ নো আউটস্ট্যান্ডিং সার্টিফিকেট(এনওসি) নিতে হবে নির্মাণকারীকে। তেমনটা না-হলে নির্মাণ কাজে 'স্টপ অফ ওয়ার্ক' নোটিশ ঝোলানো হবে। নয়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট ফ্ল্যাট বিক্রি অনেক পরের কথা, নির্মাণ কাজের আগেই মেটাতে হবে বকেয়া সম্পত্তি কর।

এই প্রসঙ্গে কলকাতা কর্পোরেশনের আধিকারিক জানান, সাধারণ মানুষ বহু কষ্টে অনেক টাকা ধারদেনা করে ফ্ল্যাট কেনেন। কিন্তু তার আগে বকেয়ার বিষয়ই খোঁজ নেন না। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফ্ল্যাট বিক্রেতারা ফাঁদে ফেলে বকেয়া করের দায় ক্রেতাদের উপর চাপিয়ে দেন। ফলে ধারদেনার করে নতুন ফ্ল্যাট কেনার পর তাঁদের বকেয়া করের দায় চাপে। সেই অবাঞ্ছিত দায় থেকে সুরাহা দিতেই এই নির্দেশিকা।

KMC TAX NOTIFICATION
কর আদায়ে কর্পোরেশনের নয়া নিয়ম (নিজস্ব চিত্র)

সম্প্রতি যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, বিল্ডিং প্ল্যানের চূড়ান্ত অনুমোদন ও কমপ্লিশন সার্টিফিকেট পেতে হলে বাধ্যতামূলক ভাবেই নো আউটস্ট্যান্ডিং সার্টিফিকেট দরকার। বহু ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন পাওয়ার পর ডেভলপার বা জমি অথবা বাড়ির মালিক বকেয়া কর প্রদান থেকে বিরত থাকেন। যেহেতু এই ক্ষেত্রে সিসি পাওয়ার আগেই ফ্ল্যাট বিক্রি করে হস্তান্তর করে দেন ক্রেতাদের, তাই সেই বকেয় করের দায় মাথায় চাপে ক্রেতাদের।

তাই এখন থেকে, জমি বাড়ির মালিক ও নির্মাণকারীকে একটি আন্ডার টেকিং বা প্রতিশ্রুতি পত্র জমা দিতে হবে, যেখানে লেখা থাকবে বকেয়া সব করের টাকা পরিশোধ করার ক্ষেত্রে তারা দায়বদ্ধ। নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তা জমা দিতে হবে।

মালিক বা নির্মাণকারী অঙ্গীকার করবেন, কর চার কোয়ার্টার বকেয়া হলেই কর্পোরেশন কাজ বন্ধের নোটিশ দেবে। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তারা কেউ কোনও পদক্ষেপ নিতে পারবে না। অর্থাৎ বিষয়ই আদালতে অভিযোগের জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন না। ফ্ল্যাট ক্রেতাদের চুক্তিতে উল্লেখ থাকবে, তাঁরা যে ফ্ল্যাট কিনছে, সেই জমি বা ফ্ল্যাটের কোনও ধরনের কর বকেয়া নেই। ক্রেতারাও বিষয়টি যাচাই করে নেবেন। কারণ নয়া নিয়মে নির্মাণকারী হোক বা যেই হোক যে বহুতল নির্মাণ করবে বা মালিক তাকেই মেটাতে হবে বকেয়া।

এই নির্দেশ মত সম্পত্তি কর মূল্যায়ন ও বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকরা ওয়ার্ড ভিত্তিক বা রাস্তা ভিত্তিক রিপোর্ট তৈরি করবেন। সেই অনুসারে নজরদারি চালিয়ে ব্যবস্থা নেবেন। নির্মাণ কাজ শুরুর এক বছরের মাথায় বকেয়া নিয়ে কর্পোরেশনের তরফে বার্তা পাঠানো হবে। নিয়ম করে স্টপ ওয়ার্ক নোটিশ দিতে হবে ও ত্রৈমাসিক রিপোর্ট পুর কমিশনারকে পাঠাবেন।

ETV Bharat Logo

Copyright © 2025 Ushodaya Enterprises Pvt. Ltd., All Rights Reserved.