চন্দননগর, 26 ফ্রেব্রুয়ারি: বাবার অত্যাধিক ঋণের বোঝা চাপ বাড়িয়েছিল চন্দননগর নৃত্য শিল্পী সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের । পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন তিনি । ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করে বাবার সেই ঋণ শোধের মরিয়া চেষ্টা করছিলেন সুতন্দ্রা ৷ কিন্তু পানাগড়ে পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ কেড়েছে তাঁর ৷
রেলের ঠিকাদারের কাজ করতেন সুতন্দ্রার বাবা সুকান্ত চট্টোপাধ্যায় ৷ সেই কাজের জন্য অনেক টাকা বকেয়া হয়ে যায় তাঁর ৷ রায়পাড়ার বসতবাড়ি ও পালপাড়ার ধর গলি এলাকার দোকান বন্ধক রেখে 50 লক্ষ টাকা ব্যাঙ্ক লোন নিয়েছিলেন সুতন্দ্রার বাবা ৷ ঋণ শোধের আগেই ক্যানসারে মৃত্যু হয় সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের ৷ বসতবাড়ি বাঁচাতে লড়াই করছিলেন সুতন্দ্রা ৷ পরিবারের দাবি, পেশার তাগিদে বাড়ির বাইরে যান মহিলারা ৷ কিন্তু, মহিলাদের নিরাপত্তা কোথায় ?
সুতন্দ্রার মা তনুশ্রী চট্টোপাধ্যায় বলেন, "আমার স্বামীর বাড়ি এবং দোকান নিয়ে 50 লক্ষ টাকা দেনা ছিল ৷ দোকানটা বিক্রি হওয়ার কথা ছিল । আমার মেয়ে ব্যাঙ্কের সঙ্গে কথা বলেছিল । আমার মেয়ে যেহেতু একমাত্র রোজগারে, সেই কারণে তার ওপরই দায়িত্ব ছিল।"
চট্টোপাধ্যায় পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে প্রতিবেশী রুমেলা লাহার। তরুণীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তিনিও । ঘটনা প্রসঙ্গে রুমেলা বলেন, "সুতন্দ্রার বাবার সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক । একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, যেকোনও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া। সুতন্দ্রার ডাকনাম মামন ৷ আমার বিয়ের পর খুব ছোট থেকেই ওকে দেখছি । ছোটবেলা থেকেই নাচের শখ ছিল এবং ভালো নাচ করত। বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান করত ।" তিনি আরও বলেন, "সুতন্দ্রার বাবার ক্যানসার ধরা পড়ার পরও তিনি কাউকে জানাননি ব্যাঙ্ক ঋণের বিষয়ে ৷ তিনি মারা যাওয়ার পর ব্যাঙ্ক থেকে ফোন আসে ৷ সুতন্দ্রা সবসময় চেষ্টা করত কীভাবে সেই ঋণ শোধ করে বাড়িটিকে বাঁচানো যায়।"
মৃত তরুণীর পরিবারই শুধু নয় ৷ মহিলা সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক দলগুলিও ৷ মঙ্গলবার সুতন্দ্রার মৃত্যুর সুবিচারের দাবিতে বিজেপির তরফে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে চন্দননগর বাগবাজার মোড় অবরোধ করা হয় । অবরোধে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক দীপাঞ্জন গুহ, হুগলি জেলা বিজেপি সভাপতি তুষার মজুমদার-সহ জেলা নেতৃত্ব । চন্দননগরে মৃত তরুণীর বাড়ি যান বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল ।
বিজেপি নেতা দীপাঞ্জন গুহ বলেন, "দুর্ঘটনাটি মর্মান্তিক ৷ একটি মেয়ে কাজের জন্য যাচ্ছিলেন ৷ সেই সময় তাঁকে ধাওয়া করা হয় ৷ পুলিশ সম্পূর্ণ তদন্ত না-করেই রেষারাষির ঘটনা বলে দিল ৷ বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক ৷ নারীদের সুরক্ষার জন্য এদিনের অবরোধ কর্মসূচি ৷" এই ঘটনার পর রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক দলগুলি ও মৃত তরুণীর পরিবার ৷