ETV Bharat / state

আপনারা যাই বলুন, ম্যাডাম কিছু শুনবেন না; হেরিটেজের জায়গায় বহুতল হবে: প্রধান বিচারপতি - CALCUTTA HIGH COURT

সিরাজ-উদ-দৌলার সম্পত্তি সংরক্ষণে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় রাজ্য সরকারকে একহাত নিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ৷

ETV BHARAT
সরকারের বিরুদ্ধে তোপ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম (ফাইল চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : Feb 27, 2025, 6:29 PM IST

কলকাতা, 27 ফেব্রুয়ারি: রাজ্যের হেরিটেজ রক্ষায় কোনও উদ্যোগ নেই সরকারের । হেরিটেজের জায়গায় বড় বড় বহুতল তৈরি হচ্ছে । পুরনো ইতিহাস রক্ষার পরিবর্তে তা ভেঙে ফেলা হচ্ছে ৷ বৃহস্পতিবার এই ভাষাতেই ফের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ।

কলকাতা হাইকোর্টের একটি জনস্বার্থ মামলায় আবেদনকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেন, মুর্শিদাবাদের সিরাজ-উদ-দৌলার সম্পত্তি ভাগিরথীর গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে । সেগুলো রক্ষা করার কোনও উদ্যোগ সরকারের নেই । সরকারি আইনজীবী সুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি 1758 সালে বাংলার শেষ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলেছিল । মাত্র 9 বিঘা জমি ছিল । তাও ভাগিরথীর ভাঙনে চলে যাচ্ছে । এ বিষয়ে আরও সময় দেওয়া হোক । বিষয়টি ভালো ভাবে জেনে তারপর রাজ্যের পক্ষে তিনি মতামত দেবেন বলে জানান ।

এই শুনে সরকারি আইনজীবীর উদ্দেশে ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি বলেন, "আপনারা ইতিহাসকে রক্ষা করার চেষ্টা করুন । চেষ্টা না করলে 9 বিঘাও থাকবে না । মহাবলীপুরমের কথা শুনেছেন ? কন্যাকুমারীতে দেখেছেন স্বামী বিবেকানন্দ রককে কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে ? সেখানে ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে ! হেরিটেজ মিশনের কাজ কী, ওই এলাকায় যান পরিদর্শন করুন । প্রকৃত অবস্থাটা বুঝুন । ইতিহাস বাঁচাতে চেষ্টার অভাব রয়েছে ।"

এরপরই ক্ষোভের সুরে প্রধান বিচারপতি বলেন, "আপনারা যত যাই বলুন না কেন, ম্যাডাম কিছু শুনবেন না । হেরিটেজ জায়গায় বড় বড় হাইরাইজ বিল্ডিং তৈরি হবে । যে কোনও পুরনো জিনিস ভেঙে ফেলা, তুলে ফেলা খুব সহজ । কিন্তু কীভাবে সেগুলোকে রক্ষা করা যায় তা শিখতে হবে ।"

রাজ্যকে আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে তাদের অবস্থান জানাতে হবে । পাশাপাশি কেন্দ্রের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকে এই মামলায় সংযুক্ত করতে হবে । তাদেরকেও আইনজীবী মারফত তাদের অবস্থান জানাতে হবে ।

উল্লেখ্য, ভাগিরথীর পশ্চিম পারে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার সম্পত্তি থাকা এলাকার পুনরুদ্ধার, সংস্কার এবং সংরক্ষণের দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার এদিন শুনানি হয় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে । ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী, 1757 সালের 24 জুন তিনি সন্তান ও কয়েকজন ঘনিষ্ঠকে নিয়ে এখান থেকে আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন । যদিও শেষ পর্যন্ত আর তিনি ফেরেননি । তাঁকে হত্যা করা হয় ।

কলকাতা, 27 ফেব্রুয়ারি: রাজ্যের হেরিটেজ রক্ষায় কোনও উদ্যোগ নেই সরকারের । হেরিটেজের জায়গায় বড় বড় বহুতল তৈরি হচ্ছে । পুরনো ইতিহাস রক্ষার পরিবর্তে তা ভেঙে ফেলা হচ্ছে ৷ বৃহস্পতিবার এই ভাষাতেই ফের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ।

কলকাতা হাইকোর্টের একটি জনস্বার্থ মামলায় আবেদনকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেন, মুর্শিদাবাদের সিরাজ-উদ-দৌলার সম্পত্তি ভাগিরথীর গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে । সেগুলো রক্ষা করার কোনও উদ্যোগ সরকারের নেই । সরকারি আইনজীবী সুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি 1758 সালে বাংলার শেষ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলেছিল । মাত্র 9 বিঘা জমি ছিল । তাও ভাগিরথীর ভাঙনে চলে যাচ্ছে । এ বিষয়ে আরও সময় দেওয়া হোক । বিষয়টি ভালো ভাবে জেনে তারপর রাজ্যের পক্ষে তিনি মতামত দেবেন বলে জানান ।

এই শুনে সরকারি আইনজীবীর উদ্দেশে ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি বলেন, "আপনারা ইতিহাসকে রক্ষা করার চেষ্টা করুন । চেষ্টা না করলে 9 বিঘাও থাকবে না । মহাবলীপুরমের কথা শুনেছেন ? কন্যাকুমারীতে দেখেছেন স্বামী বিবেকানন্দ রককে কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে ? সেখানে ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে ! হেরিটেজ মিশনের কাজ কী, ওই এলাকায় যান পরিদর্শন করুন । প্রকৃত অবস্থাটা বুঝুন । ইতিহাস বাঁচাতে চেষ্টার অভাব রয়েছে ।"

এরপরই ক্ষোভের সুরে প্রধান বিচারপতি বলেন, "আপনারা যত যাই বলুন না কেন, ম্যাডাম কিছু শুনবেন না । হেরিটেজ জায়গায় বড় বড় হাইরাইজ বিল্ডিং তৈরি হবে । যে কোনও পুরনো জিনিস ভেঙে ফেলা, তুলে ফেলা খুব সহজ । কিন্তু কীভাবে সেগুলোকে রক্ষা করা যায় তা শিখতে হবে ।"

রাজ্যকে আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে তাদের অবস্থান জানাতে হবে । পাশাপাশি কেন্দ্রের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকে এই মামলায় সংযুক্ত করতে হবে । তাদেরকেও আইনজীবী মারফত তাদের অবস্থান জানাতে হবে ।

উল্লেখ্য, ভাগিরথীর পশ্চিম পারে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার সম্পত্তি থাকা এলাকার পুনরুদ্ধার, সংস্কার এবং সংরক্ষণের দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার এদিন শুনানি হয় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে । ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী, 1757 সালের 24 জুন তিনি সন্তান ও কয়েকজন ঘনিষ্ঠকে নিয়ে এখান থেকে আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন । যদিও শেষ পর্যন্ত আর তিনি ফেরেননি । তাঁকে হত্যা করা হয় ।

ETV Bharat Logo

Copyright © 2025 Ushodaya Enterprises Pvt. Ltd., All Rights Reserved.