বারাসত, 10 জুন : ঘুমানোর সময় কখন যে বিষধর সাপ ছোবল মেরে (Barasat Snake Bites) পালিয়েছে তা টেরই পাননি যুবক । যতক্ষণে বোঝা সম্ভব হয়েছিল ততক্ষণে সাপে কাটা ওই রোগীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন । সেই অবস্থায় সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা করে বাঁচিয়ে তুললেন সঙ্কটাপন্ন ওই রোগীকে । তাঁদের প্রচেষ্টায় নতুন জীবন ফিরে পেলেন আতাউল রহমান নামে বছর বাইশের ওই যুবক । কিছুটা অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমনই কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সাফল্য পেয়েছে বারাসত জেলা হাসপাতাল । নতুন জীবন ফিরে পেয়ে রীতিমতো আপ্লুত রোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা । সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সাক্ষাৎ ভগবানের সঙ্গে তুলনা করছেন তাঁরা ।
উত্তর 24 পরগনার শাসনের দক্ষিণ বহিরা গ্রামে বাড়ি আতাউলের । মঙ্গলবার ভোররাতে তিনি যখন বাড়িতে শুয়েছিলেন তখন তাঁর হাতের ওপর দিয়ে একটি বিষধর সাপ চলে যায় । তখনও সে বুঝতে পারেনি বিষধর সাপ তাঁর পায়ে ছোবল মেরে পালিয়েছে । ঘুম থেকে উঠে পরিবারকে যুবক সাপের চলে যাওয়ার বিষয়টি জানান । সাপ কামড়েছে কি না জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, কামড়ায়নি । এর কিছুক্ষণ পর থেকেই যুবকের পেটে যন্ত্রণা এবং বমি শুরু হয় । প্রথমে বিষয়টি ডি-হাইড্রেশন ভেবে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে তাঁকে নিয়ে যায় পরিবারের লোকেরা । কিন্তু সেই চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ খেয়েও কোনও কাজ হয়নি বলে । উপরন্তু রোগীর শরীর ক্রমশ নিস্তেজ হতে শুরু করে । জড়িয়ে যেতে থাকে কথাবার্তাও ।
আরও পড়ুন : RNA-based Therapy : করোনা মোকাবিলায় পথ দেখাচ্ছে আরএনএ-নির্ভর চিকিৎসা
লক্ষ্মণ খারাপ দেখে সেদিনই বিকেলে বারাসত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় রোগীকে । প্রথমে সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে ভর্তি করে তাঁর চিকিৎসা চলতে থাকে ওই রোগীর । কিন্তু কিছুতেই তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না । অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছিল ৷ এরইমধ্যে রোগীর বিভিন্ন লক্ষ্মণ দেখে সন্দেহ জাগে হাসপাতাল সুপার সুব্রত মণ্ডলের মনে । তিনি ও চিকিৎসকদের টিম দেরি না করে সঙ্কটাপন্ন ওই রোগীর ডবল ব্লাড ক্লটিং টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নেন । সেই রিপোর্টেই শেষে ধরা পড়ে রোগীকে সাপে কাটার বিষয়টি । এরপরই সার্জিক্যাল ওয়ার্ড থেকে সিসিইউ ইউনিটে স্থানান্তরিত করা হয় সাপে কাটা ওই রোগীকে । রাখা হয় ভেন্টিলেশনে । 24 ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টার শেষে সাপে কাটা রোগীকে সুস্থ করে তোলেন তাঁরা । আরও একদিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ওই রোগীকে ।
এই বিষয়ে হাসপাতাল সুপার সুব্রত মণ্ডল বলেন, "রোগীর পেটে যন্ত্রণা, বমি এবং ছটফট করতে দেখে সন্দেহ হয়েছিল সাপে কাটলেই একমাত্র রোগী এই ধরনের আচরণ করে থাকে । ডবল ব্লাড ক্লটিং টেস্টের রিপোর্ট আসার পর সেটাই স্পষ্ট হয়েছে । ঠিকমতো জীবনদায়ী ওষুধ এবং ইনজেকশন প্রয়োগ করার ফলেই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে । এছাড়া চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টা তো রয়েছেই । রোগী এখন পুরোপুরি সুস্থ । খুব ভাল লাগছে রোগীকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে দিতে পেরে ৷"
এদিকে হাসপাতালের চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আতাউল বলেন, "চিকিৎসকরা সত্যিই ভগবান । তাঁরা না থাকলে এই যাত্রায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারতাম কী না জানি না ৷"