কলকাতা, 5 এপ্রিল: রামনবমীকে কেন্দ্র করে রাজ্য-সহ দেশের একাধিক জায়গায় হিংসার ঘটনা ঘটেছে । বৃহস্পতিবার হনুমান জয়ন্তীতে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চায়না কেন্দ্র । এই কারণে বুধবার কেন্দ্রের তরফে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য ৷ প্রয়োজনীয় কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে তার উল্লেখ রয়েছে সেই নির্দেশিকায় ৷ কেন্দ্রের এই নির্দেশিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । আর এই ইস্যুতেই বুধবার মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ৷
তাঁর অভিযোগ, মমতা নিজে ও তার পরিবারকে বাঁচাতে জুয়া খেলায় নেমেছেন । শাসকদল তৃণমূল যে হারে বিভিন্ন চুরি, দুর্নীতি, কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছে তার থেকে রক্ষা পেতেই কেন্দ্রের সঙ্গে সব ধরনের আপসে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ সেলিম এদিন বলেন,"মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার তাঁর পরিবারকে বাঁচানোর জন্য জুয়া খেলছেন । কেন্দ্র সরকার ক্রমাগত নানান বিষয়ে রাজভবন দ্বারা সরকার চালাতে চাইছে । কেন্দ্রীয় সরকারের এই পরিকল্পনায় সামিল হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । লুটেরারা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন ।"
হনুমান জয়ন্তীর মিছিলে যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায় তার জন্য প্রয়োজনে কেন্দ্রীয়বাহিনী ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট ৷ হাইকোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে এদিন মহম্মদ সেলিম বলেন,"হাইকোর্টের আদেশকে স্বাগত । কিন্তু, ইমপ্লিমেন্ট কে করবে ? ওইদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ কাউকে আটকায়নি । আগেও তো শর্ত লেখা ছিল । তারপরও বাইক মিছিল আটকায়নি কেন ? রুট পরিবর্তন হল কেন ? মুখ্যমন্ত্রী তামাশা করলে (ধরনা) বাঁশ দিয়ে, বল্লম দিয়ে ব্যারিকেড করে । এক্ষেত্রে কেন হল না ? ধর্ম পালন করতে গেলে কেন অস্ত্র লাগবে ।"
আরও পড়ুন: রাজ্যের তিনটি জায়গায় হনুমান জয়ন্তীতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত রাজ্যের
এদিনের আক্ষেপের সুরে সেলিম আরও জানান, এক অংশের ধর্মীয় উৎসবের নাম করে আর এক অংশের মানুষের উপর হামলা কখনও ছিল না এই রাজ্যে । কিন্তু যেদিন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন বিজেপিকে নিয়ে বামপন্থীদের উৎখাত করব, সেদিন থেকেই অশান্তির ইতিহাস রচিত হয়েছে ।