কলকাতা, 21 জানুয়ারি: ন্যাশনাল ক্রাইম রের্ডস ব্যুরো'র (National Crime Records Bureau) মতে অন্য শহরের তুলনায় কলকাতায় নারী সুরক্ষার দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে। সুরক্ষার দিক থেকে শহর কলকাতা এগিয়ে থাকলেও মাঝেমধ্যেই নারী-নিগ্রহের ঘটনায় খবরের শিরোনামে আসে। আর এই মহিলা নিগ্রহের ঘটনায় কিছু টেকনিক বা মাধ্যমের দ্বারা আত্মরক্ষা করা যায়। আত্মরক্ষার টেকনিকের মধ্যে অন্যতম হল ক্যারাটে। আর এই ক্যারাটে প্রশিক্ষণ দিয়ে মোট 40 জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে ভাইজ্যাকে একটি ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্টে (International Tournament) অংশ নিতে যাচ্ছেন কোচ হান্সই জিপি দাস ৷
ইটিভি ভারতকে কোচ হান্সই জিপি দাস বলেন, "আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে আমার 40 জন বাছাই করা ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে ভাইজ্যাকে একটি ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি। সেখানে বেশিরভাগই মহিলা ছাত্রী।" এখানে একসঙ্গে হান্সই জিপি দাসের তত্ত্বাবধানে শিখছেন মার্শাল আর্ট বা ক্যারাটে। দিনে প্রায় দু'ঘণ্টা এই ক্যারেটে প্রশিক্ষণীরা তাদের কোচ, স্যরের কাছে শিক্ষণ নেয় ৷ এরপর বাড়ি গিয়ে আবার দেড় ঘণ্টা প্র্য়াকটিস করে তারা ৷
ভাইজ্যাকে এই ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিতে চলেছে সৌরদীপ দাস। তার কথায়, "আমি 100 শতাংশ আশাবাদী যে ওই রাজ্যে গিয়ে স্যারের সম্মান রক্ষা করতে পারব এবং সোনা নিয়ে আসতে পারব।" ভাইজ্যাকে অংশগ্রহণকারী ছাত্রী কেয়া দে ইটিভি ভারতকে জানায়, "আমি নিজের সুরক্ষা নিজেই করতে পারি। পথে-ঘাটে কোনওরকমের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি উপস্থিত হলে তার থেকে সুরক্ষা অবলম্বন করে সেই বিপদ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য যথেষ্ট পারদর্শী।" চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী অমৃতা দাস জানায়, সেও আশাবাদী এবং তার সুরক্ষা সে নিজেই নিতে যথেষ্ট পারদর্শী।ওখানে গিয়ে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করার চেষ্টা করব। ভবিষ্যতেও আমি ক্যারাটেকে জীবনের অন্যতম অঙ্গ হিসেবে বেছে নিতে চায়।
আরও পড়ুন: দারিদ্র্যতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারাটে প্রশিক্ষণ প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ সহেলীর
করোনাকালে মানুষ সব থেকে যে বিষয় চিন্তিত ছিল তা হল, কীভাবে শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ার বৃদ্ধি করা যায়। এই বিষয়ে কোচ হান্সই জিপি দাস বলেন, "শরীরে ইমিউনিটি পাওয়ার বৃদ্ধির জন্য ক্যারাটের বিকল্প হয় না। বিভিন্ন স্ট্রেচিং বা বিশেষ ব্যায়াম রয়েছে যা ইমিউনিটি পাওয়ার বৃদ্ধি করতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।" কোচের তরফে জানা গিয়েছে, ভাইজ্যাকে এই খেলার পর এপ্রিল মাসে তাঁরা দুবাই যাবেন। মূলত ক্যারাটে একজন মানুষকে আত্মরক্ষা করতে শেখায়। এই বিষয়ে ছাত্রীর অভিভাবকরা জানান, ভিন্ন সময়ে তাঁরা ঘরের কাজকর্মে ব্যস্ত থাকেন। এবং তাঁদের ছেলেমেয়েরা বাইরে টিউশন পড়তে বা স্কুলে যায়। সেই সময় যদি কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে নিজের সুরক্ষা কবজ ক্যারাটেকে হাতিয়ার করে সেই বিপদ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে। এইটুকু আশাবাদী ওরা প্রত্যেকেই।"