মালদা, 8 জুলাই: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পঠনপাঠনের ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ উঠল ৷ বদলে পোকা ধরা চালের খিচুড়ি বিলি করা হচ্ছে সেখান থেকে ৷ সপ্তাহে চারদিন খাবার বিলি হলেও, শুধুমাত্র হাতেগোনা কয়েকজনকেই খাবার দেওয়া হয় ৷ এমনই একগুচ্ছ অভিযোগে কর্মী ও সহকারি বদলের দাবিতে ইংরেজবাজারের মানিকপুরের বাবুপাড়া অঙ্গনওয়াড়ির কেন্দ্রে তালা মেরে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয়রা (Protest Against ICDS Workers for Serving Unhealthy Food in Malda) ৷
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মানিকপুরের বাবুপাড়ার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী তসলিমা খাতুন এবং সহকারি রাখি সিংহ ৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র নামেই চলছে ৷ সেখানে শিশুদের পঠনপাঠনের কোনও ব্যবস্থা নেই ৷ এমনকি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি নোংরা হয়ে রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে ৷ তার মধ্যেই পোকা ধরা চাল দিয়ে খিচুড়ি রান্না করা হয় বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের ৷ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী তসলিমা খাতুনও সপ্তাহে মাত্র একদিন আসেন বলে অভিযোগ ৷ আর সহকারি রাখি সিংহ সপ্তাহে চারদিন রান্না করেন এবং খাবার দেন পড়ুয়াদের ৷ তাও ঘণ্টাখানেকের মধ্যে স্কুলে না গেলে সহায়িকা খাবার দেওয়া বন্ধ করে বাড়ি চলে যান বলে অভিযোগ ৷ এমনকি তসলিমা খাতুন আজও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে যাননি বলে অভিযোগ ৷
এ দিন সকালে কেন্দ্রে খাবার নিতে গিয়ে খিচুড়িতে পোকা দেখে প্রতিবাদ করে বাচ্চারা । অভিযোগ এর পরেই স্কুল থেকে চলে যান সহায়িকা ৷ খবর পেয়ে স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ৷ পরে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহকারির বদলির দাবিতে কেন্দ্রে তালা মেরে দেন তাঁরা ৷ স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এর আগেও এই কেন্দ্রে খাবার দেওয়া নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল ৷ সেই সময় আধিকারিকরা এসে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে সতর্ক করেছিলেন ৷ কিন্তু, তাতেও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা ৷
আরও পড়ুন: Poor Quality Food at Anganwadi : পাণ্ডুয়ার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিম্নমানের খাবার, বিক্ষোভ এলাকাবাসীর
এক অভিভাবক মধুমিতা সাহা সিংহ বলেন, “সহকারি সকালে রান্না করে ওভাবেই ছেড়ে চলে যাচ্ছেন ৷ কেন্দ্র থেকে খাবার বিলি করার কথা কাউকে জানানো হয় না ৷ বাচ্চাদের ডেকে খাবার দেওয়া হয় ৷ এমনকি যে সিদ্ধ ডিম পায় না, তাকে কাঁচা ডিম দেওয়া ৷ বারবার কর্মী ও সহায়িকাকে বলেও কিছুই হয়নি ৷ বাধ্য হয়ে আজ আমরা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তালা মেরেছি ৷ আমাদের একটাই দাবি, অবিলম্বে এই কেন্দ্রের কর্মী ও সহকারি বদল করতে হবে ৷ কেন্দ্রে শিশুদের পঠনপাঠনের কোনও ব্যবস্থা নেই ৷ কেন্দ্রে 100 জনের নাম থাকলে 10 জনের খাবার রান্না হচ্ছে ৷ আর কর্মী সপ্তাহে একদিন কেন্দ্রে আসে। যে খাবার দেওয়া হয় তাতে পোকা দেখা যায়। আমরা বাচ্চাদের ওই খাবার কি করে খেতে দেব?”
আরও পড়ুন: Agitation at Anganwari Center : নিম্নমানের খাবার দেওয়ার প্রতিবাদে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিক্ষোভ
একই বক্তব্য আরেক অভিভাবক জ্যোতি মণ্ডলের ৷ তিনি বলেন, “আমরা এই এলাকায় এসেছি এক বছর হয়েছে ৷ কেন্দ্রে আমার ছেলের নাম উঠেছে ৷ কিন্তু, এখনও আমার ছেলেকে খাবার দেওয়া হচ্ছে না ৷ ওই কর্মী আমাকে বলছেন, এখনও তোমরা এই এলাকার বাসিন্দা হওনি ৷ তাই তোমাদের খাবার আসছে না ৷ তাহলে আমরা কবে এলাকার বাসিন্দা হব ? যখন ছেলের বয়স পাঁচ বছর হবে ? কর্মী কেন্দ্রের উপভোক্তা তালিকায় নাম তুলেছে, সরকার সেই নাম অনুযায়ী খাবার দিচ্ছে ৷ কিন্তু, আমাদের সেই খাবার দেওয়া হচ্ছে না ৷’’