কলকাতা, 12 সেপ্টেম্বর : চার রাজ্যে চার নাম । তিনটে ভোটার আইডি কার্ড । জামাত-উল-মুজাহিদিন ইন্ডিয়া জঙ্গি আসাদুল্লাহকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাচ্ছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স । গোয়েন্দাদের সন্দেহ, তার ডেরা থেকে উদ্ধার হতে পারে বিস্ফোরক । সেই সূত্রেই আজ তাকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তুলে নিজেদের হেপাজতে চান গোয়েন্দারা । আদালত তাকে 14 দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে ।
খাগড়াগড় কাণ্ডের পরেই গা ঢাকা দেয় আসাদুল্লাহ । চলে যায় দক্ষিণ ভারতে । সেখানে শুরু করে ঢালাই মিস্ত্রির কাজ । কখনও কর্নাটক, কখনও কেরল, কখনও তামিলনাড়ুতে গা ঢাকা দিয়ে ছিল আসাদুল্লাহ । এই সময় বানিয়ে ফেলে তিনটে জাল ভোটার আইডেন্টিটি কার্ড । ওই তিন রাজ্যে তিনটি নামে পরিচিত ছিল সে । তবে ঝাড়খণ্ডে আসার পর সে নিজের পরিচয় দেয় রাজা নামে । গোয়েন্দা সূত্রে খবর, কওসর যখন কর্নাটকে ছিল তখন বেশ কিছুদিন আসাদুল্লাহ ছিল সেখানে । পরে তামিলনাড়ু চলে গেলেও মাঝেমধ্যেই কর্নাটকে আসত মিটিং করতে । আসাদুল্লাহর কাছে পাওয়া গেছে মোবাইলের তিনটি সিম কার্ড । গোয়েন্দাদের ধারণা, সেই সিম কার্ডগুলো থেকে পাওয়া যাবে জামাতুল মুজাহিদিন ইন্ডিয়া সম্পর্কে বহু তথ্য । তবে ইজাজের পরে আসাদুল্লাহর কাছেও জাল ভোটার কার্ড পাওয়া যাওয়ার বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন গোয়েন্দারা । STF-এর সন্দেহ বাংলাদেশের জঙ্গিরা এদেশে এসে বানিয়ে ফেলছে জাল ভোটার কার্ড । কিন্তু সেগুলি তৈরি হচ্ছে কোথায়? গোয়েন্দারা সে সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু করেছেন ।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ইজাজকে গ্রেপ্তার করার দিন আসাদুল্লাহ তিনটি SMS করে তাকে । উত্তর না পেতেই সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী সতর্ক হয়ে যায় সে । প্রায় এক কাপড়ে বেরিয়ে পড়ে গয়ার ভাড়া বাড়ি থেকে । সঙ্গে ছিল বিবি এবং পাঁচ ছেলে । তার বিবি বর্তমানেও সন্তানসম্ভবা । তাদের সে তুলে দেয় কলকাতাগামী ট্রেনে । ইজাজকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আসাদুল্লাহর খোঁজ ছিল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের কাছে । সেই সূত্রে বর্ধমানে তার স্ত্রীকে আটকায় গোয়েন্দারা । তখন তিনি সন্তানসম্ভবা অবস্থায় পাঁচ সন্তানকে নিয়ে প্রায় দিশেহারা । কিন্তু কলকাতা পুলিশকে ধোঁকা দেওয়া যায়নি । তাকে চেপে ধরতেই বেরিয়ে পরে সত্যি । জানা যায়, ইজাজের ধরা পড়ার খবর পেতেই সক্রিয় হয় আসাদুল্লাহ । স্ত্রীকে নিয়ে পালায় গয়ার ডেরা থেকে । কোনও মতে আসে গয়া স্টেশনে । সেখান থেকে সে কলকাতাগামী ট্রেনে তুলে দেয় সন্তানসম্ভবা বিবিসহ সন্তানদের । তারা বর্ধমানে এসে নামে । প্রসঙ্গত বর্ধমানের ভাতারে বাড়ি আসাদুল্লাহের ।
বর্ধমান স্টেশনে আসাদুল্লাহর বিবিকে আটক করে পুলিশ । তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, বিবিকে কলকাতাগামী ট্রেনে তুলে দিয়ে নিজে বেপাত্তা হয়েছে আসাদুল্লাহ । এরই মাঝে কলকাতায় মিটিং করার ছক কষে জামাতুল মুজাহিদিন ইন্ডিয়া । সেই সূত্র ধরে গ্রেপ্তার হয় কাশেম বারি সহ তিনজন । সূত্র জানাচ্ছে যে 11 জন কলকাতায় এসে বৈঠক করার কথা ছিল, তাদের নেতা এই আসাদুল্লাহ । গোয়েন্দারা তার বিবির কাছ থেকে জানতে পারে তামিলনাড়ুতে আগে থাকত এই আসাদুল্লাহ । বর্ধমান স্টেশনে ট্রেনের টাইম মিলিয়ে পুলিশ বুঝতে পারে, ফের তামিলনাড়ুতেই যাচ্ছে আসাদুল্লাহ । সেখানে বহুদিন থেকেছে এই জঙ্গি । ঠিকানা তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ের ১/১০৮ AA নগর, সেনালপুরম । চেন্নাইয়ে তার পরিচিতি ছিল রাজমিস্ত্রি হিসেবে ।