কলকাতা, 13 জানুয়ারি: প্রয়াত ফসিলসের প্রাক্তন বেস গিটারিস্ট চন্দ্রমৌলি বিশ্বাস। 12 জানুয়ারি মধ্য কলকাতার ইন্ডিয়ান মিরর স্ট্রিটে তাঁর ভাড়া বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় ঝুলন্ত দেহ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন চন্দ্রমৌলি। বিগত কয়েক বছর ধরেই হাতে তেমন কাজ ছিল না তাঁর। তাই বেশ আর্থিক সংকটেই ছিলেন তিনি। অবসাদের জন্য শিল্পীর চিকিৎসা চলছিল বলেও জানা গিয়েছে ৷
গতকাল কল্যাণীর বঙ্গ সংস্কৃতি উৎসবে যাওয়ার সময়েই এই খবর পান রূপম। ওদিকে কথা দেওয়া আছে অনুষ্ঠান কর্তাদের। অগণিত শ্রোতা তাঁর জন্য অপেক্ষারত। রূপম মঞ্চে উঠলেন। পিছনের স্ক্রিনে ভেসে উঠল চন্দ্রমৌলির ছবি। গান শুরুর আগে রূপম ইসলাম বললেন, "এই নিয়ে 21 বার বঙ্গ-সংস্কৃতি উৎসবে আমরা। তার মধ্যে 16 বার আমাদের সঙ্গে যিনি ছিলেন তাঁর ছবি পিছনে ফুটে উঠেছে। আমরা আসবার সময় গাড়িতে একটা খবর পেয়েছি। সেই খবরটা বজ্রাঘাতের মতোই আমাদের মাথায় এসে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেউই গান গাইতে পারে না। কারোর হাতে বাদ্যযন্ত্র বেজে ওঠে না। কিন্তু বাংলা রক জনতা আমাদের সামনে উপস্থিত। যাঁদের খোঁজ আমরা একসঙ্গেই করেছিলাম, চন্দ্র তখন আমাদের সঙ্গেই ছিল, একটা বিরাট সময়। আমি কখনও বিশ্বাস করিনি, চন্দ্রকে ছাড়া এই ব্যান্ড কোনওদিন পারফর্ম করবে। ওর সঙ্গেই আমার বেশি বন্ধুত্ব ছিল।গত বছর পর্যন্ত যোগাযোগ ছিল। নানান দার্শনিক বিষয়ে কথা হত। কিছু কিছু গান নিয়ে আমাদের বসার কথা ছিল। তবে ওর জীবন আলাদা করে চলছিল। আমার মনে হয় না সেই সব গান আমি কোনওদিনই প্রকাশ করতে পারব…।"
রূপম এদিন আরও বলেন, "ব্যান্ড জীবনে একটা কথা মাথায় রাখতে হয় সবসময়। গরিষ্ঠতা কী বলছে? সেই হিসেবেই পথ চলতে হয়। এখানে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কোনও জায়গা নেই। সেই গরিষ্ঠতা থেকে অনেকের সঙ্গেই আমাদের পথ আলাদা হয়ে গিয়েছে। তবুও আমরা চেষ্টা করছি আমাদের সফর চালিয়ে নিয়ে যেতে।আমাদের দর্শক সবসময়ই চেয়েছে যে আমরা গান বাজানা চালিয়ে যাই। সেই পথ চলা যে আমাদের এমন একটা সন্ধ্যায় আমাদের এনে দেবে, যেদিন আমাদের এক সঙ্গীর ছবি এভাবে পিছনের পর্দায় রেখে আমাদের মঞ্চে উঠতে হবে! ভাবিনি যে বলতে হবে আজকের অনুষ্ঠান কী করে করব জানি না, কখনও ভাবিনি! তবে এটাই জীবন।"